দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, নৃ-গোষ্ঠী, সংখ্যালঘু এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এবং বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নীতি ও কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারায় সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধারণ করে আসছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। সরকারের দায়িত্ব হলো সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা।
বৈঠকে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির নেতারা চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান চন্দ্রনাথ ধামে আগত দর্শনার্থী ও ভক্তদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, প্রতিবছর দেশ-বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে এলেও অবকাঠামো ও যোগাযোগ সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
তাদের বক্তব্য শোনার পর মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি চন্দ্রনাথ ধামের সিঁড়ি সংস্কার ও নির্মাণ, মন্দির উন্নয়ন এবং আশপাশের এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর উন্নয়ন শুধু ধর্মীয় প্রয়োজনেই নয়, পর্যটন বিকাশ, স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই জনগণের প্রয়োজন ও বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার এ ধরনের প্রকল্পে ইতিবাচক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাইসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
