নিউ চণ্ডীগড়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিনটি পুরোপুরি নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিক ভারত। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক শুভমন গিল। পিচের আচরণ এবং কন্ডিশনকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপ। প্রথম দিনের খেলা শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩৬৮ রানের একটি বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে ভারত, যা ম্যাচটিতে তাদের চালকের আসনে বসিয়ে দিয়েছে।
দিনের শুরুর দিকে ভারত উদ্বোধনী জুটিতে কিছুটা ধাক্কা খেলেও তা সামাল দিতে সময় নেয়নি। ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল মাত্র ২৪ রান করে সাজঘরে ফিরলেও, দ্বিতীয় উইকেটে হাল ধরেন কেএল রাহুল এবং সাই সুদর্শন। এই দুই ব্যাটার আফগান বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে রান তুলতে থাকেন। সুদর্শন ৮১ রানের একটি দুর্দান্ত এবং আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলে আউট হলেও, রাহুল দেখিয়েছেন অসীম ধৈর্য। ১৬৫ বলে ঠিক ১০০ রান পূর্ণ করে আউট হন তিনি, যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো হুবহু একশ রানে আউট হওয়ার একটি অদ্ভুত রেকর্ডের জন্ম দেয়।
কেএল রাহুলের বিদায়ের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের কাঁধে তুলে নেন অধিনায়ক শুভমন গিল। আফগান স্পিনার ও পেসারদের অনায়াসে মোকাবেলা করে তিনি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি তুলে নেন। নিখুঁত টাইমিং এবং দুর্দান্ত সব শটের সাহায্যে দিন শেষে গিল ১৪৩ বলে ১০৩ রানে অপরাজিত থাকেন। অধিনায়কের এই দায়িত্বশীল ব্যাটিং ভারতকে বড় সংগ্রহের পথে অনেকটাই এগিয়ে দেয়।
অধিনায়কের সাথে উইকেটে যোগ দিয়ে আফগানিস্তানের বোলারদের উপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেন উইকেটকিপার-ব্যাটার ঋষভ পন্ত। পন্ত তার স্বভাবসুলভ আগ্রাসী ভঙ্গিতে ব্যাটিং করে দিন শেষের ঠিক শেষ বলে ১ রান নিয়ে নিজের অর্ধশতক পূরণ করেন। তিনি মাত্র ৭০ বলে ২টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৫০ রান করে অপরাজিত আছেন। গিল ও পন্তের অবিচ্ছিন্ন ১২১ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি আফগান ফিল্ডারদের সারাদিন মাঠের চারদিকে ব্যস্ত রাখে।
অন্যদিকে, প্রথম দিনটি আফগানিস্তানের বোলারদের জন্য ছিল অত্যন্ত ক্লান্তিকর এবং কঠিন। ভারতীয় ব্যাটারদের আগ্রাসনের মুখে তাদের বোলিং লাইনআপ খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। দলের পক্ষে মোহাম্মদ সেলিম সর্বোচ্চ ২টি উইকেট শিকার করলেও বেশ রান খরচ করেছেন এবং জিয়াউর রহমান পেয়েছেন ১টি উইকেট। অভিষিক্ত স্পিনার নানগেয়ালিয়া খারোতেও উইকেটের দেখা পাননি। সামগ্রিকভাবে প্রথম দিন শেষে আফগানিস্তানকে সম্পূর্ণ ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়ে বিশাল স্কোরের শক্ত ভিত গড়ে তুলেছে ভারত।
