বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান চীন সফরে এসে দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকট এবং তিস্তা নদী প্রকল্পসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততার আহ্বান জানানো। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তা চাওয়া হয়েছে, যা ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার মধ্যে কূটনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয় এই বৈঠকে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মধ্যস্থতার ভূমিকা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতে বেইজিং সহায়তা দিয়ে যাবে বলে যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, পানিসম্পদ এবং স্বাস্থ্য খাতে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় উচ্চমানের প্রকল্প বাস্তবায়নের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
বৈশ্বিক ইস্যুতেও দুই দেশ অভিন্ন অবস্থান ব্যক্ত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক যাতায়াত নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে উভয় পক্ষ। পাশাপাশি বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বায়নের পক্ষে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দুই দেশ।
বৈঠকে বাংলাদেশ এক-চীন নীতির প্রতি তার অবিচল সমর্থন পুনরায় নিশ্চিত করেছে এবং তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
এটি ড. খলিলুর রহমানের চীনে প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। বৈঠক শেষে তিনি চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
সূত্র: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
