আইসিসি নারী চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে গত ৬ মে, ২০২৬ তারিখে করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওডিআই ম্যাচে পাকিস্তান নারী দল বিশাল ব্যবধানে জিম্বাবুয়ে নারী দলকে পরাজিত করেছে। এই ম্যাচে পাকিস্তান ২০৬ রানের এক পাহাড়সম ব্যবধানে জয়লাভ করে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ তে লিড নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করেছে। ম্যাচে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন পাকিস্তানি ওপেনার গুল ফিরোজা।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে পাকিস্তান নারী দলের অধিনায়ক প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন। করাচির ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে স্বাগতিকদের শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো। দুই ওপেনার গুল ফিরোজা এবং সাদাফ শামস জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে ১৮৯ রানের রেকর্ড উদ্বোধনী জুটি গড়েন। পাকিস্তানের ব্যাটিং তাণ্ডবের সামনে জিম্বাবুয়ের বোলাররা ছিলেন একেবারেই অসহায়, যার ফলে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান ৩৪৩ রানের এক বিশাল পুঁজি সংগ্রহ করে। এটি ওডিআই ইতিহাসে পাকিস্তানের নারী দলের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
পাকিস্তানের এই রানের পাহাড়ে চড়তে মূল ভূমিকা রাখেন গুল ফিরোজা এবং সাদাফ শামস। গুল ফিরোজা মাত্র ৯৩ বলে পাকিস্তানের নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরি করার রেকর্ড গড়েন এবং ১০০ রান করে আউট হন। তার ইনিংসে ছিল ১৩টি চার। অন্যদিকে সাদাফ শামস ১১২ বলে ১০১ রানের একটি ধীরস্থির অথচ কার্যকর সেঞ্চুরি উপহার দেন, যেখানে ছিল ১০টি চার ও ১টি ছক্কা। এছাড়া শেষ দিকে সিদ্রা আমিন ৫৮ বলে অপরাজিত ৫৯ এবং ফাতিমা সানা মাত্র ১৩ বলে ২৫ রানের ক্যামিও খেললে স্কোর ৩৪০ ছাড়িয়ে যায়। জিম্বাবুয়ের পক্ষে নামভেলো সিবান্দা, লিন্ডোকুহলে মাভেরো এবং ক্রিস্টিন মুতাসা একটি করে উইকেট নেন।
৩৪৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ে নারী দল শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। পাকিস্তানি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে জিম্বাবুয়ের কোনো ব্যাটারই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ওপেনার কেলিস এনডলোভু কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করে ৩২ রান করেন এবং রানিয়ারারো পাসিপানোদিয়া অপরাজিত ৩৩ রান করে হারের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৩৯ ওভারে মাত্র ১৩৭ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। বিলভড বিজার ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান।
পাকিস্তানের এই বিশাল জয়ে বোলারদের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। বল হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন ফাতিমা সানা; তিনি ৬ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন সৈয়দা আরুব শাহ এবং রামিন শামিম, যারা প্রত্যেকেই ২টি করে উইকেট নেন। এছাড়া মোমিনা রিয়াসাতও তুলে নেন ২টি উইকেট। ২০৬ রানের এই জয়টি রানের ব্যবধানে ওডিআই ক্রিকেটে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় জয় হিসেবে নথিবদ্ধ হয়েছে। সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে পাকিস্তান এখন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্যে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছে।
