দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা প্রিয়দর্শিনী মৌসুমী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সেখানেই নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তার পরিচয় ও কাজের আলোচনা শুরু হয়। জানা যায়, শুরুতে হাসান জাহাঙ্গীর মৌসুমীকে একটি সংগ্রামী নারীর জীবনভিত্তিক ছোট নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। নাটকটির নাম ছিল ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’। সীমিত পরিসরের একটি নাট্যনির্মাণ হিসেবেই প্রকল্পটি মৌসুমীর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে নির্মাতা দ্বিতীয় দফায় যোগাযোগ করে জানান, গল্পটিকে টেলিফিল্ম আকারে বড় করা হবে। এজন্য আরও কিছু দৃশ্য ধারণের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মৌসুমীকে অনুরোধ করেন। পারিশ্রমিক বাড়ানোর আশ্বাসে অতিরিক্ত শুটিংয়েও সম্মতি দেন এই অভিনেত্রী।
কিন্তু পরবর্তীতে বিষয়টি অন্য দিকে মোড় নেয়। অভিযোগ উঠেছে, সেই টেলিফিল্মকেই নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর সেন্সর বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে রূপ দেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এতে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৌসুমী এবং তার স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানী।
ঘনিষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য, মৌসুমী মনে করছেন তাকে যে প্রকল্পে যুক্ত করা হয়েছিল তার প্রকৃত উপস্থাপন ও চূড়ান্ত ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। আর এ কারণেই তিনি বিষয়টিকে পেশাগতভাবে অস্বচ্ছতা হিসেবে দেখছেন।
এদিকে ওমর সানী প্রকাশ্যে তীব্র অসন্তোষ জানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—একটি টেলিফিল্ম কীভাবে পূর্ণাঙ্গ সিনেমায় রূপান্তরিত হয়, যদি সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের সঙ্গে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট চুক্তি ও সম্মতি না থাকে? তিনি ঘটনাটিকে অনৈতিক উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন।
বিনোদন অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, শিল্পীকে একটি ফরম্যাটের কাজের কথা বলে পরে সেটিকে ভিন্ন মাধ্যমে ব্যবহার করা হলে তা নৈতিকতা ও পেশাগত স্বচ্ছতার প্রশ্ন তোলে। এখন দেখার বিষয়, এ নিয়ে মৌসুমী বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো আইনি বা সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয় কি না।
