রোববার, ২৪ মে ২০২৬
Logo
×

টেস্টে ৭ নাম্বারে উঠলো বাংলাদেশ

প্রথম সমাচার ডেস্ক ২০ মে ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন

 

​বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য টেস্ট ফরম্যাটটা দীর্ঘদিন ধরেই ছিল এক দীর্ঘশ্বাসের নাম। ‘টেস্ট স্ট্যাটাস’-এর দুই দশকেরও বেশি সময় পার হওয়ার পরও ক্রিকেটের এই অভিজাত সংস্করণে লাল-সবুজ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার শেষ ছিল না। তবে সব সমালোচনা আর দীর্ঘ পথচলার ক্লান্তি মুছে ফেলে পাকিস্তান বধের মধ্য দিয়ে এক নতুন ইতিহাস রচনা করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে বিশ্ব টেস্ট ক্রিকেটের এলিট ক্লাবে নিজেদের নাম লেখাল টাইগাররা।

​টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিক ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে বাংলাদেশ দল এখন আইসিসি টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের ৭ম স্থানে উন্নীত হয়েছে। টেস্টের ইতিহাসে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ র‍্যাঙ্কিং। অতীতে জিম্বাবুয়ে বা নিচের সারির দলগুলোর ওপরে থাকাই যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, সেখানে ক্রিকেটের আধুনিক পরাশক্তিদের টপকে ৭ম স্থানে উঠে আসা দেশের ক্রিকেট কাঠামোর এক বিশাল বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

​এছাড়াও ​আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) চলতি চক্রে বাংলাদেশ এখন এক সমীহ জাগানিয়া নাম। সাম্প্রতিক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে পয়েন্ট টেবিলের ৫ম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই তালিকায় ক্রিকেটের পরাশক্তি ​ভারত, ​ইংল্যান্ড, পাকিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ-এর মতো দলগুলোকে পেছনে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ।

​টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশ এখন আর কেবল অংশগ্রহণকারী নয়, বরং অন্যতম প্রধান প্রতিযোগী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছে।

​পাকিস্তান হোয়াইটওয়াশের মহাকাব্য
​এই বদলে যাওয়ার গল্পের টার্নিং পয়েন্ট ছিল পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ। রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে পাকিস্তানকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো তাদের মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। তবে সেখানেই ক্ষান্ত হয়নি শান্ত-লিটনরা। দ্বিতীয় টেস্টেও রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে এক অবিশ্বাস্য গৌরবগাথা রচনা করে টিম বাংলাদেশ। এরপর ঘরের মাঠে সদ্য সমাপ্ত সিরিজেও পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে টাইগাররা। পেসারদের আগুনে বোলিং, স্পিনারদের চতুরতা আর ব্যাটারদের দৃঢ়তা—সব মিলিয়ে এক পরিপূর্ণ দলীয় পারফরম্যান্সের নজির গড়েছিল দল।

​ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে:
“এতদিন টেস্টে বাংলাদেশকে ‘সহজ প্রতিপক্ষ’ ভাবা হতো। কিন্তু পেস বোলিং ইউনিটের দুর্দান্ত উন্নতি এবং মেন্টাল টাফনেস বা মানসিক দৃঢ়তা দলটিকে বদলে দিয়েছে। এখন যেকোনো কন্ডিশনে যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য রাখে এই দল।”

​ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ
​বছরের পর বছর ধরে চলা টেস্টের “দৈন্যদশা” বা ধারাবাহিকতাহীনতার যে অপবাদ বাংলাদেশের ঘাড়ে ছিল, এই অর্জনের মাধ্যমে তা অনেকটাই ঘুচেছে। তবে ক্রিকেট ভক্ত ও বিশেষজ্ঞদের মতে, আসল চ্যালেঞ্জ এখন এই সাফল্যের গ্রাফ ধরে রাখা। দেশের মাটিতে স্পিন-সহায়ক উইকেটের সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি বিদেশের মাটিতেও পেস ও বাউন্সের চ্যালেঞ্জ জয় করার যে মানসিকতা তৈরি হয়েছে, তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাটাই হবে মূল লক্ষ্য।

​পাকিস্তানের মাটিতে ও হোম সিরিজে পাওয়া এই আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে বাংলাদেশ দল টেস্ট ক্রিকেটের রাজত্বে আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে—এমনটাই এখন কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...