মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। এই হামলায় কমপক্ষে চারজন নিহত হয়েছেন।
একই সঙ্গে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর টায়ারের বাসিন্দাদের জোরপূর্বক এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোনে সরাসরি হুঁশিয়ার করে দেন যে, এভাবে হামলা চালিয়ে গেলে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়বে।
তিনি নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে উভয় পক্ষকে অবিলম্বে গোলাগুলি বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং জানান যে শান্তির চূড়ান্ত আলোচনা দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
মার্কিন সূত্রগুলো জানায়, ট্রাম্প মনে করেন লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক প্রতিক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
এদিকে নেতানিয়াহু ঘোষণা করেন যে ইরানে হামলা বন্ধ রাখার মার্কিন অনুরোধ ইসরায়েল মেনে নিয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, লেবাননে সামরিক অভিযান চলতে থাকবে। নেতানিয়াহু সতর্ক করেন, ইরান যদি পুনরায় হামলা শুরু করে, তাহলে ইসরায়েল পূর্ণ শক্তিতে পাল্টা আঘাত হানবে।
ইরান এই পরিস্থিতিতে নিজেদের সামরিক তৎপরতা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। তবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা না থামলে তারা হরমুজ প্রণালীসহ একাধিক রণাঙ্গনে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন মানেই সামগ্রিক যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন এবং এর পরিণতির দায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকেই বহন করতে হবে।
কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর প্রস্তাবে হিজবুল্লাহ পারস্পরিক হামলা বন্ধের একটি মার্কিন উদ্যোগে সম্মতি জানায়।
লেবাননের ওয়াশিংটন দূতাবাস জানায়, ট্রাম্প লেবাননের রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন যে নেতানিয়াহুর সম্মতি তিনি আদায় করেছেন। তবে মাঠের পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা — লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলা এখনও থামেনি।
প্রসঙ্গত, রোববার বৈরুতে ইসরায়েলের তীব্র বোমা হামলার মধ্য দিয়ে এই নতুন উত্তেজনার সূচনা হয়। জবাবে ইরান উত্তর ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।
ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে পাল্টা আঘাত না করতে অনুরোধ করলেও সোমবার ভোরে ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এরপর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।
—আল-জাজিরা
