ফেনীর পরশুরামে দায়ের হওয়া এক আলোচিত ধর্ষণ মামলার তদন্তে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মক্তব শিক্ষক ও ইমাম মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং ভুক্তভোগী কিশোরীর সন্তানের জৈবিক পিতা হিসেবে তার বড় ভাই মোরশেদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১৭ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে মোজাফফর আহমদকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মোরশেদকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর কিশোরীর পরিবার মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হলে এক মাস দুই দিন কারাগারে থাকতে হয়। এ ঘটনায় তিনি স্থানীয় মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব হারানোর পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরিচ্যুত হন।
তদন্তের একপর্যায়ে সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় মোজাফফরের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী জানান, তার বড় ভাই মোরশেদ দীর্ঘদিন ধরে তাকে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন। পরিবারের সদস্যরা প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে মোজাফফর আহমদকে মামলায় জড়িয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
পরবর্তীতে মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে শিশুটির সঙ্গে তার ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া যায়। এতে তদন্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন, শিশুটির জৈবিক পিতা মোরশেদ।
মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর মোজাফফর আহমদ বলেন, মিথ্যা অভিযোগে তিনি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছেন, চাকরি হারিয়েছেন এবং মামলার খরচ চালাতে জমি বিক্রি করতে হয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
তার আইনজীবী আবদুল আলীম মাকসুদ বলেন, শুরু থেকেই এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ছিল এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য প্রকাশ পেয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর স্পষ্ট হয়েছে যে একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
