ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় একই বিভাগের শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এ আদেশ দেন।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফুল মোহাম্মদসহ অন্যরা মানবিক বিবেচনায় তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী ইকবাল হোসেন মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পুলিশের আবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে এজাহারনামীয় আসামি সুদীপ চক্রবর্তীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার ৩টা ২০ মিনিটে উত্তর বাড্ডা থেকে আটক করে হেফাজতে নেয়া হয়। তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মামলার ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তার নাম/ঠিকানা যাচাই প্রক্রিয়াধীন। এমতাবস্থায় মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে তদন্ত কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। মামলা তদন্তের স্বার্থে ভবিষ্যতে তার রিমান্ডের প্রয়োজন হতে পারে বলে তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন।
রোববার রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় নিজ বাসায় ঢাবি শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমো ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় একটি চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে লেখাছিল, সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। পরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সুদীপ চক্রবর্তীকে আসামি করে মামলা করা হয়। এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
