ইসরাইলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির সংসদ সদস্য আরিয়েল কেলনার তুরস্ককে “শত্রু রাষ্ট্র” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইসরাইলি রেডিও গালেই ইসরাইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেলনার বলেন, “সব দিক থেকেই তুরস্ক একটি শত্রু রাষ্ট্র।” তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে “স্বৈরশাসক” উল্লেখ করে দাবি করেন, তিনি একটি ইসলামি খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।
কেলনার আরও বলেন, এরদোয়ান ইসরাইলের প্রতি বৈরী মনোভাব পোষণ করেন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর উচিত তাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা।
এর আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান মন্তব্য করেছিলেন, সিরিয়া ও লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা তুরস্কের নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, “ইসরাইলকে থামাতে হবে। এটি মানবতার দায়িত্ব।”
এর জবাবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এরদোয়ানকে “ইহুদিবিদ্বেষী স্বৈরশাসক” বলে আখ্যা দেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “এরদোয়ান আমার খুব ভালো বন্ধু। আমরা একসঙ্গে ভালোভাবে কাজ করেছি।”
গাজা যুদ্ধ, সিরিয়ার ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও বেড়েছে। ২০২৪ সালে আঙ্কারা ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করে এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা গণহত্যা মামলায় যোগ দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আঞ্চলিক সংকট ও ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই আরও জটিল হয়ে উঠছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
