তুরস্কের মেরসিন প্রদেশের সিলিফকে জেলায় গত শনিবার (২ মে, ২০২৬) অনুষ্ঠিত হলো আন্তর্জাতিক এক ক্রীড়া আয়োজন। ২য় তুরান কাপ দড়ি টানাটানি টুর্নামেন্টে বিভিন্ন মহাদেশ থেকে আসা খেলোয়াড়রা তাদের শক্তি, ভারসাম্য ও সহনশীলতার পরীক্ষা দিয়েছেন, যা ছিল দৃষ্টিনন্দন ও প্রাণবন্ত।
তুরস্ক দড়ি টানাটানি ফেডারেশন এবং ইউরোপীয় দড়ি টানাটানি ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ১৪টি দেশ থেকে প্রায় ২২০ জন খেলোয়াড় অংশ নেন।

তুরস্কের পাশাপাশি আজারবাইজান, কিরগিজস্তান, কাজাখস্তান, রাশিয়া, উত্তর সাইপ্রাস, সুদান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, লেবানন এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের দল এতে অংশ নেয়।
পুরুষ, যুব পুরুষ এবং মিশ্র বিভাগে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়রা বালিতে পা ডুবে যাওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতিতেও অসাধারণ লড়াই চালিয়ে যান।

সোর্স: সংগৃহীত।
দর্শকদের উৎসাহব্যঞ্জক চিৎকারের মধ্যে দলগুলো প্রতিপক্ষকে টেনে আনতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে।
তীব্র প্রতিযোগিতার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশও লক্ষ্য করা যায়। কঠিন পরিস্থিতিতেও তারা খেলোয়াড়সুলভ আচরণ বজায় রেখে দর্শকদের রোমাঞ্চকর মুহূর্ত উপহার দেয়।
পৃথিবীর অন্যান্য অনেক দেশের মতো এ টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। মূলত তুরস্কের মেরসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশী শিক্ষার্থী কাজী জহিরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মোহাম্মদ আকাশ সহ ৬ জনের টিম নিয়ে বাংলাদেশ সেখানে অংশগ্রহণ করে। টিম প্রতিনিধি হিসেবে তিনি জানান, “আমি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক এ ইভেন্টের বিজ্ঞাপন দেখে আবেদন করি। তারপর নির্বাচিত হলে বাংলাদেশীদের নিয়ে এ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করি। এ টুর্নামেন্টে একদিকে প্রতিযোগিতা থাকলেও অন্যদিকে সবার মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতামূলক সম্পর্ক ছিল। আয়োজন কমিটি থেকে শুরু করে তুরস্কের জনগণ ও বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড় ও দর্শকদের আচরণে মুগ্ধ হয়েছি।”
তুরস্ক দড়ি টানাটানি ফেডারেশনের সভাপতি এরায় আলদেমির বলেন, এই আয়োজন প্রতি বছর আরও বড় পরিসরে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, “খেলাধুলা শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়রা এখানে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।”

ইউরোপীয় দড়ি টানাটানি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি এবং আজারবাইজান ফেডারেশনের সভাপতি এলনুর শিকালিয়েভও এই আয়োজন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী বছর তুরান কাপ কাজাখস্তানে অনুষ্ঠিত হবে। এভাবে বিভিন্ন দেশে আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
