নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, মাদকাসক্তি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষা, ভাষা ও কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
শনিবার রাজধানীর ইস্কাটনে পুলিশ কনভেনশন হলে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে রোটারি ক্লাব অব গুলশান অ্যাভিনিউ ‘ডিডিসি সন্ধানী’র জন্য একটি অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক ব্লাড স্টোরেজ রেফ্রিজারেটর এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর করে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ রক্ত সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে থ্যালাসেমিয়া, ডেঙ্গু, দুর্ঘটনা এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের রোগীদের দ্রুত রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, “রক্ত একটি জীবনদায়ী উপাদান। এর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা যত উন্নত হবে, তত বেশি মানুষের জীবন রক্ষা করা যাবে।”
তিনি আরও জানান, আগামী জুনের পর রাজধানী ঢাকা থেকে জনসচেতনতামূলক অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম শুরু করা হবে, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সরকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বেসরকারি সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করছে। রোটারি ক্লাবের এই মানবিক উদ্যোগ দেশের সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার দূর করতে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। মাদকাসক্তি, জুয়া, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হুসাইন ফকির এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হোসাইন। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পিডিজি ড. ইশতিয়াক এ. জামান, রোটারি ক্লাব অব গুলশান অ্যাভিনিউয়ের প্রোগ্রাম চেয়ারম্যান রোটারিয়ান মো. সালাহ উদ্দিন এবং ক্লাবের সভাপতি ডা. লুবনা শারমিন।
