শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
Logo
×

প্রবাসীদের ভাগ্য বদলের প্রত্যাশা: ২১ জুন দুই দিনের সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রথম সমাচার ডেস্ক ০৭ জুন ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর ভাগ্য উন্নয়ন, বন্ধ শ্রমবাজারের টেকসই সমাধান এবং কনস্যুলার সেবা সহজীকরণের এক নতুন বার্তা নিয়ে আগামী ২১ ও ২২ জুন দুই দিনের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফরে কুয়ালালামপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নতুন সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর।

এই উচ্চপর্যায়ের সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কে যেমন নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে, তেমনই মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মধ্যেও আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে।

সফরের নেপথ্য ও কূটনৈতিক গুরুত্ব

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফোনে অভিনন্দন ও বিশেষ শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। সেই সুবাদে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ মালয়েশিয়াকে প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়াকে অত্যন্ত দূরদর্শী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর দ্রুত স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর অন্যতম মালয়েশিয়া। বর্তমানে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য, শিক্ষা, বিনিয়োগ এবং শ্রমবাজারের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।

যদিও সফরের আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা—নানা অভিযোগ ও অনিয়মের কারণে ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে বন্ধ থাকা সাধারণ কর্মী নিয়োগের বাজার পুনরায় চালু করার জন্য একটি স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী টেকসই পদ্ধতি নির্ধারণ করাই হবে এই সফরের প্রধান লক্ষ্য।

প্রবাসীদের প্রধান ৩ দাবি

মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি ডায়াসপোরা ও প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের কয়েকটি বড় দাবি এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে:

১. অবৈধ কর্মীদের বৈধকরণ: নিয়োগকর্তার সমস্যা বা ভিসা জটিলতার কারণে অনেক প্রবাসী সময়মতো ভিসা নবায়ন (রিনিউ) করতে না পেরে অনিচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের আইনি সুরক্ষায় বৈধ করার জোরালো দাবি উঠেছে। ২. স্থায়ী কনস্যুলার দপ্তর স্থাপন: কুয়ালালামপুর থেকে দূরবর্তী প্রদেশ যেমন সাবা, সারাওয়াক, পেনাং ও জহুর বাহরুতে হাজার হাজার প্রবাসী থাকেন। সাবা ও সারাওয়াক থেকে শুধু আকাশ বা সাগরপথে কুয়ালালামপুর আসতে হয়, যা প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। তাই এসব অঞ্চলে স্থায়ী কনস্যুলার দপ্তর চালুর দাবি জানানো হচ্ছে। ৩. বাংলাদেশি স্কুল প্রতিষ্ঠা: দুবাই ও সৌদি আরবের মতো মালয়েশিয়াতেও প্রবাসী সন্তানদের জন্য নিজস্ব পাঠ্যক্রমে ‘বাংলাদেশি স্কুল’ প্রতিষ্ঠার দাবি রয়েছে।

রেমিট্যান্স ও নিরাপদ অভিবাসনের নতুন আশা

মানবসম্পদ উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে যদি একটি স্বচ্ছ ও মধ্যস্বত্বভোগী (সিন্ডিকেট) মুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়, তবে তা প্রবাসীদের নিরাপদ ও স্বল্প খরচে কর্মসংস্থানের মাইলফলক হবে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রেমিট্যান্স প্রবাহকেও উল্লেখযোগ্যভাবে গতিশীল করবে।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...