জামায়াতের সদস্যরা এসময় প্রতিবাদ জানান। অন্যদিকে এসময় বিএনপি দলীয় সদস্যদের কেউ কেউ ফজলুর রহমানের পক্ষে টেবিল চাপড়ালেও অনেককে আবার উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখতে দেখা যায়।
জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের তুলনা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে শোকপ্রস্তাবের বিরোধিতা করেন ফজলুর রহমান। এসময় বিরোধী দলের হইচই ও প্রতিবাদের মুখে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সবাইকে শান্ত থাকতে বলেন এবং বিধিমোতাবেক না চললে সংসদ না থাকার হুঁশিয়ারি দেন।
আজ সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)।
তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চয়ই আমার নেতা, তিনিও শুনছেন। আমি কথাগুলো বলছি ৫ আগস্টের পরে যে ঘটনাগুলো হয়েছে সেগুলো নিয়ে। ৫ আগস্টের পরবর্তীতে তো কোনো আইনে ইনডেমনিটি পাওয়ার কথা না।’
বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে পুলিশ যা করেছে তারা রাষ্ট্রীয় বাহিনী। তারা যদি অন্যায় করে থাকে তাদের বিচার হোক। কিন্তু আমি মনে করি তারা তো দেশের নাগরিক। পুলিশের মা, বাবা ও সন্তান রয়েছে। অন্তত রাষ্ট্রের তাদের কাছে গিয়ে বলা উচিত, তোমার সন্তান যদি নিহত হয়ে থাকে আমরা তোমাদের দেখব।’
ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি কমান্ডার ছিলাম, আপনি (স্পিকার) বীরবিক্রম ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বরের (১৯৭১ সালের) পরে শত শত রাজাকার আমার কাছে আত্মসমর্পণ করছে। আমি কাউকে হত্যা করিনি। সবাইকে জেলে পাঠিয়েছি। তার বিচার হবে।’
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে আঘাত করেছেন। তিনি বলেছেন—যে আমি বলে থাকি, আমি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। তিনি এটাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। এরপর তিনি বলেছেন—কোনো মুক্তিযোদ্ধা বা কোনো শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারেন না। তাহলে ওনাকে জিজ্ঞেস করে করা (জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করা) লাগবে? এটি আমার নাগরিক অধিকার।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমি কোন দল করব, আমি কোন আদর্শ করব; এর উপর হস্তক্ষেপ করার নূন্যতম অধিকার রাষ্ট্র কিংবা সংবিধান কাউকে দেয়নি। আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই। আমার আইডেন্টিটি (পরিচয়) নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, এটা তিনি গুরুতর অপরাধ করেছেন। আবার তিনি আমার আদর্শ বাছাইয়ের বিষয়ে প্রশ্ন তোলে বাড়তি অপরাধ করেছেন।’
‘আমি অনুরোধ করব মাননীয় স্পিকার, তার বক্তব্যের অসংশোধীয় অংশ বাদ দেওয়া হোক’—বক্তব্যে যোগ করেন ডা. শফিকুর রহমান।
