ফেনীর আলোচিত কিশোরীকে ধর্ষণ মামলার (যে কিশোরী তার ভাই কর্তৃক ধর্ষিত হয়েছিল) অভিযুক্ত ভুক্তভোগী ইমাম মোজাফফর আহমেদ জুবায়ের বর্তমানে গুরুতর মানসিক সমস্যার মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার ঘনিষ্ঠরা। সাম্প্রতিক এক আপডেটে জানানো হয়, জেল থেকে মুক্তির পর তিনি অস্বাভাবিক আচরণ প্রদর্শন করছেন এবং চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা এক বিবৃতিতে জানান, কারাগারে থাকা অবস্থায় ওই ইমাম আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন এবং মাথায় আঘাত পান। তবে সম্প্রতি তার আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি গুরুতর আকার ধারণ করে।
তিনি জানান, গত রাতে তাকে অস্থায়ীভাবে একটি বাসায় রাখা হলে তিনি হঠাৎ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। বাসার জিনিসপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত কয়েকজনকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
পরে পুলিশি সহায়তায় তাকে রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়, যেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার অংশ হিসেবে ইনজেকশন দেওয়ার পর বর্তমানে তিনি ঘুমন্ত অবস্থায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে জাতীয় পরিচয়পত্র ও আইনগত অভিভাবকের অনুপস্থিতির কারণে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যরা দ্রুত পৌঁছালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তারেক রেজা আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ইমাম “মানসিক ট্রমা ও সাইকোসিসে” আক্রান্ত হতে পারেন এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. সায়েদুল আশরাফ কুশল তার চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, ফেনীর এই মামলাটি নিয়ে আগে থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ইমাম যে ধর্ষণ কান্ডে জড়িত নয় তা উঠে এসেছে। স্বয়ং কিশোরীর ভাই ধর্ষণ করার ফলে বাচ্চা হওয়া নিয়ে ঘটনাটি দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
