দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি বড় মাত্রার ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে, যাতে দেশটির রাজধানী কারাকাসে বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ইউএসজিএসের হিসাব মতে, প্রথম কম্পনটি বুধবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সময় ৬টা ৪ মিনিটে সান ফেলিপে শহরের নিকটে ঘটে, কারাকাস থেকে যার দূরত্ব প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার এবং তীব্রতা ৭ দশমিক ২। মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পরই ইউমার এলাকার কাছে দ্বিতীয় একটি বড় কম্পন অনুভূত হয়, যেটির তীব্রতা ছিল আরও বেশি—৭ দশমিক ৫।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, পরের কম্পনটির গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার নিচে এবং এর কেন্দ্র ছিল ইউমার থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে এই দুর্যোগের প্রভাব বিস্তৃত এলাকায় পড়তে পারে এবং বড় ধরনের আফটারশক অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। প্রতিবেশী কলম্বিয়া ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের একাংশেও এই কম্পনের রেশ অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিসংখ্যানগত পূর্বাভাসে ইউএসজিএস উল্লেখ করেছে, এই ভূকম্পনে ১০ হাজারের অধিক মানুষের মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪৪ শতাংশ, এবং মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। পাশাপাশি ভূমিধস ও মাটি নরম হয়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকিও যথেষ্ট প্রকট বলে জানানো হয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা দিওসদাদো কাবেয়ো নাগরিকদের বাড়িঘরের বাইরে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ঝুঁকি কমাতে কিছু ভবনের গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে, কারণ কয়েকটি স্থাপনা ইতিমধ্যে আংশিক ক্ষতির শিকার হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, কম্পনের সময় মানুষ ছুটে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং কোনো কোনো ভবনে দেয়ালে ফাটল ও জানালার কাচ ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। কারাকাসে তোলা একটি ছবিতে একটি ব্যাংকের ভবন সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়তে দেখা গেছে।
দুর্যোগের পরিধি ও প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি, তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে।
সূত্র: বিবিসি/পিএস
