কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের (এমআই) মধ্যকার এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে ঘরের মাঠের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স। ২০২৬ সালের ২০ মে কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত এই লড়াইয়ে কেকেআর ৪ উইকেটের ব্যবধানে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে পরাজিত করে। টপ অর্ডারে নেমে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ও দায়িত্বশীল ৪৫ রানের ইনিংস খেলে কলকাতার এই জয়ে মূল ভূমিকা পালন করেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মনীশ পান্ডে। ম্যাচজুড়ে চমৎকার ব্যাটিং শৈলী প্রদর্শনের জন্য তাকে ম্যাচসেরার (প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ) পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
ম্যাচের শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ টস ভাগ্য পক্ষে যায় কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানের। ঘরের মাঠের উইকেটে পরে ব্যাটিং করার সুবিধা নিতে তিনি প্রথমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান। কলকাতার এই সিদ্ধান্ত যে কতটা যৌক্তিক ছিল, তা শুরুতেই প্রমাণ করেন কেকেআরের বোলাররা। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে বেশি সময় নেননি তারা। মাত্র ৬ রান করে বিদায় নেন ওপেনার রায়ান রিকেলটন। অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া দলের হাল ধরার চেষ্টা করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা মুম্বাই বড় সংগ্রহের ভিত গড়তে ব্যর্থ হয়।
ব্যাট হাতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের শুরুটা নড়বড়ে হলেও দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন লোয়ার-অর্ডার ব্যাটার কর্বিন বোশ। মাত্র ১৮ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো তার এই ঝোড়ো ইনিংসের ওপর ভর করেই লড়ার মতো পুঁজি পায় মুম্বাই। এছাড়া অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া ২৭ বলে ২৬ রান এবং তিলক বর্মা ৩২ বলে ২০ রান করেন। কেকেআরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রানেই থমকে যায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ইনিংস। কলকাতার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন (২৩ রানে ২ উইকেট), সৌরভ দুবে (৩৪ রানে ২ উইকেট) এবং কার্তিক ত্যাগী (৩৭ রানে ২ উইকেট)। এছাড়া সুনীল নারিন ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে ১টি উইকেট শিকার করে মুম্বাইয়ের রানের গতি টেনে ধরেন।
১৪৮ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ফিন অ্যালেনের উইকেট হারালেও কেকেআরকে চাপে পড়তে দেননি অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে ও মনীশ পান্ডে। রাহানে ১৭ বলে ২১ রান করে বিদায় নিলেও ম্যাচসেরা মনীশ পান্ডে ৩৩ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ৪৫ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস খেলেন। মনীশের বিদায়ের পর মিডল অর্ডারে দলের হাল ধরেন রভম্যান পাওয়েল। তিনি মাত্র ৩০ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে এক ঝড়ো ৪০ রানের ইনিংস খেলে কলকাতার জয়কে একদম হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন। শেষ দিকে রিংকু সিংয়ের ৫ বলে অপরাজিত ৯ এবং অনুকূল রায়ের ৪ রানের কল্যাণে ১৮.৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় কলকাতা নাইট রাইডার্স।
বল হাতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষে একাই লড়াই করেন অলরাউন্ডার কর্বিন বোশ। ব্যাটিংয়ে চমৎকার পারফরম্যান্সের পর বল হাতেও ৩ ওভারে ৩০ রান দিয়ে তুলে নেন কেকেআরের গুরুত্বপূর্ণ ৩টি উইকেট। এছাড়া জাসপ্রিত বুমরাহ ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ১টি এবং আল্লাহ মোহাম্মদ গজানফর ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান খরচায় ১টি উইকেট শিকার করলেও তা কেকেআরের জয় রথ থামানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। ম্যাচের সিংহভাগ সময় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে শেষ পর্যন্ত ৭ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটের দাপুটে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স।
