লিওনেল মেসি ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মার্কিন ফুটবলের আর্থিক ও কাঠামোগত চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। এমএলএস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নতুন চুক্তিতে মেসির বেতন আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। বর্তমানে তাঁর বার্ষিক মূল বেতন ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০৭ কোটি ৩৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা। তবে সব মিলিয়ে তাঁর মোট নিশ্চিত আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৮৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩ ডলারে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে যখন মেসি প্রথম চুক্তি করেছিলেন, তখন তাঁর মূল বেতন ছিল ১ কোটি ২০ লাখ ডলার। এই বিপুল আয়ের ফলে মেসি এখন লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেতনভোগী খেলোয়াড়, লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি (এলএএফসি) তারকা সন হিউং-মিনের চেয়েও দ্বিগুণের বেশি উপার্জন করছেন।
মেসির এই বিশাল পারিশ্রমিকের প্রভাবে ইন্টার মায়ামির মোট বেতন খরচও এখন লিগের অন্য যেকোনো দলের চেয়ে অনেক বেশি। বর্তমানে মায়ামির খেলোয়াড়দের পেছনে মোট খরচ ৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলার, যা গত মৌসুমের শুরুর ৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মায়ামির এই খরচ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির (৩ কোটি ২৭ লাখ ডলার) চেয়েও ২ কোটি ডলার বেশি। এমনকি লিগের সবচেয়ে কম বেতনের দল ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের (১ কোটি ১৭ লাখ ডলার) তুলনায় মায়ামির খরচ প্রায় পাঁচ গুণ। অন্যান্য ক্লাবের মধ্যে টরন্টো এফসি তাদের বেতন খরচ কমিয়ে ২ কোটি ১৪ লাখ ডলারে নামালেও এলএএফসি তাদের ব্যয় বাড়িয়ে ৩ কোটি ২৭ লাখ ডলারে উন্নীত করেছে।
লিওনেল মেসির এই নতুন চুক্তি মূলত গত অক্টোবরে সম্পন্ন হয়েছে, যার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত। ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি দলকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে গেছেন। তাঁর নেতৃত্বেই ক্লাবটি ইতিহাসের প্রথম এমএলএস কাপ জেতার গৌরব অর্জন করে। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও মেসি ছিলেন উজ্জ্বল; গত মৌসুমে ২৯ গোল করে তিনি টানা দ্বিতীয়বারের মতো লিগের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড় (এমভিপি) নির্বাচিত হন। মেসির প্রকাশিত এই বেতনের তথ্যে তাঁর মূল বেতন, মার্কেটিং বোনাস ও এজেন্ট ফি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও ক্লাব বা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে থাকা বাণিজ্যিক চুক্তি এবং পারফরম্যান্স বোনাস এখানে যুক্ত করা হয়নি।
মেসির আগমনে সামগ্রিকভাবে লিগের খেলোয়াড়দের আয়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে পুরো এমএলএস-এ খেলোয়াড়দের মোট নিশ্চিত পারিশ্রমিক দাঁড়িয়েছে ৬৩ কোটি ১০ লাখ ডলারে। চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, একজন খেলোয়াড়ের গড় নিশ্চিত আয় এখন ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৮১৬ ডলার, যা গত বছরের অক্টোবর মাসের তুলনায় প্রায় ৮.৯ শতাংশ বেশি। মূলত মেসির মতো বিশ্বসেরা তারকার উপস্থিতি এবং লিগের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা খেলোয়াড়দের এই আয় বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
