শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
Logo
×

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা স্মারকের খসড়া ফাঁস, সামনে এলো ১৪ দফা প্রস্তাব

প্রথম সমাচার ডেস্ক ১৮ জুন ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনার একটি খসড়া স্মারকের ১৪ দফা প্রস্তাব প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। প্রকাশিত নথিতে যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, উভয় পক্ষের মধ্যে অবিলম্বে ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। এতে লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে সামরিক সংঘাত বন্ধের পাশাপাশি ভবিষ্যতে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকারের বিষয়ও উল্লেখ রয়েছে।

নথিতে দুই দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে উভয় পক্ষের সম্মতিতে আলোচনার সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।

খসড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সামুদ্রিক চলাচল স্বাভাবিক করা এবং পরবর্তীতে অঞ্চল থেকে সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে ইরানও পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে।

অর্থনৈতিক অংশে ইরানের পুনর্বাসন ও উন্নয়ন সহায়তায় প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।

পারমাণবিক ইস্যুতে খসড়ায় বলা হয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করবে। তবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, পারমাণবিক উপাদান এবং বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিষয়গুলো চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

এছাড়া চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইরান তার বর্তমান পারমাণবিক কার্যক্রম বজায় রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি থেকে বিরত থাকবে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, ইরানের তেল ও পেট্রোরসায়ন পণ্য রপ্তানির জন্য তাৎক্ষণিক ছাড়পত্র দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং, বীমা ও জাহাজ পরিবহন কার্যক্রম সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

প্রস্তাবিত চুক্তির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে একটি যৌথ তদারকি ব্যবস্থা গঠনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতাকে আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি দিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন নেওয়ার বিষয়টিও খসড়ার অংশ হিসেবে রয়েছে।

তবে প্রকাশিত এই ১৪ দফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের আগে দুই দেশের মধ্যে আরও কূটনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতার প্রয়োজন হতে পারে।

সূত্র: সিএনএন

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...