২০২৬ আইপিএলের ৪১তম ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ এক হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ৬ উইকেটে পরাজিত করে এক স্মরণীয় জয় তুলে নেয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন হায়দরাবাদের বিধ্বংসী ব্যাটার হেনরিখ ক্লাসেন।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন। ঘরের মাঠে ব্যাট করতে নেমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিল। ওপেনার রায়ান রিকলটনের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৪৩ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় মুম্বাই। রিকলটন মাত্র ৫৫ বলে ১০টি চার ও ৮টি ছক্কায় ১২৩ রানের এক অপরাজিত মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন উইল জ্যাকস, যিনি ২২ বলে ৪৬ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস উপহার দেন।
হায়দরাবাদের বোলারদের জন্য দিনটি খুব একটা সুখকর ছিল না, তবে প্রফুল হিঙ্গে ৫৪ রান খরচ করলেও গুরুত্বপূর্ণ ২ টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া এশান মালিঙ্গা ৪ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ১টি উইকেট নেন। মুম্বাইয়ের অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া ইনিংসের শেষ দিকে ১৫ বলে ৩১ রানের দ্রুতগতির ইনিংস খেলে দলের সংগ্রহকে আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। বিশাল এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হায়দরাবাদ যে পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল, তা ছিল অবিশ্বাস্য রকমের আক্রমণাত্মক।
২৪৪ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হায়দরাবাদের দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও অভিষেক শর্মা শুরু থেকেই বোলারদের ওপর চড়াও হন। হেড মাত্র ৩০ বলে ৮টি ছক্কায় ৭৬ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন এবং অভিষেক শর্মা ২৪ বলে করেন ৪৫ রান। উদ্বোধনী জুটিতেই তারা মাত্র ৮.৪ ওভারে ১২৯ রান যোগ করে জয়ের ভিত গড়ে দেন। এরপর ব্যাটিংয়ে এসে হেনরিখ ক্লাসেন ৩০ বলে অপরাজিত ৬৫ রানের ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন, যাতে ছিল ৭টি চার ও ৪টি ছক্কার মার।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বোলারদের মধ্যে এ এম গজানফর ৫১ রান দিয়ে ২ উইকেট নিলেও মূল বোলার জাসপ্রিত বুমরাহ ছিলেন বেশ খরুচে। নিজের ৪ ওভারে কোনো উইকেট না পেয়ে তিনি ৫৪ রান দেন, যা মুম্বাইয়ের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া ৩৯ রানে ১ উইকেট শিকার করেন। কিন্তু হায়দরাবাদের ব্যাটারদের রুদ্রমূর্তি কোনোভাবেই দমানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে সলিল আরোরার মাত্র ১০ বলে ৩০ রানের ক্যামিও ইনিংসটি ম্যাচটিকে দ্রুত শেষ করে দেয়।
শেষ পর্যন্ত ১৮.৪ ওভারেই ৪ উইকেট হারিয়ে ২৪৯ রান তুলে ফেলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ৮ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটের এই জয় আইপিএল ইতিহাসের অন্যতম সেরা রান তাড়া হিসেবে গণ্য হচ্ছে। রিকলটনের অনবদ্য সেঞ্চুরি বৃথা গেলেও, দলীয় পারফরম্যান্স এবং টপ অর্ডারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে অরেঞ্জ আর্মি। এই জয় হায়দরাবাদকে পয়েন্ট টেবিলে আরও সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দিল।
