পিএসএল ২০২৬-এর দ্বিতীয় এলিমিনেটরে শক্তিশালী ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে ২ রানের নাটকীয় ব্যবধানে পরাজিত করে ফাইনালে নাম লিখিয়েছে হায়দরাবাদ কিংস মেন। গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শেষ বলের রোমাঞ্চে জয় ছিনিয়ে নেয় হায়দরাবাদ। ব্যাট হাতে বিধ্বংসী ইনিংস এবং বল হাতে স্নায়ুচাপ সামলে দুর্দান্ত বোলিং করার জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন হায়দরাবাদের তরুণ পেসার হুনাইন শাহ।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে হায়দরাবাদ কিংস মেনকে প্রথমে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানায় ইসলামাবাদ ইউনাইটেড। শুরুতে সাইম আইয়ুব এবং মার্নাস লাবুশেন দেখে-শুনে খেলা শুরু করলেও মিডল অর্ডারে কুশল পেরেরার ৩৭ এবং শেষের দিকে ওসমান খানের টর্নেডো ইনিংস হায়দরাবাদকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৬ রান সংগ্রহ করে তারা। ইসলামাবাদের পক্ষে ইমাদ ওয়াসিম ২ ওভারে ১৬ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন।
হায়দরাবাদের ব্যাটিং ইনিংসে মূল আকর্ষণ ছিলেন ওসমান খান। তিনি মাত্র ৩০ বলে ১০টি চারের সাহায্যে অপরাজিত ৬১ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যার স্ট্রাইক রেট ছিল ২০৩-এর উপরে। এছাড়া সাইম আইয়ুব ২৭ বলে ৩৮ রান এবং মার্নাস লাবুশেন ৩২ বলে ৩৯ রান করে ইনিংসের ভিত শক্ত করেন। কুশল পেরেরা ২১ বলে ৩৭ রানের কার্যকর একটি ইনিংস খেলে দলকে ১৮৬ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজিতে পৌঁছে দেন।
১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইসলামাবাদের শুরুটা বেশ ভালো ছিল। ওপেনার ডেভন কনওয়ে ২৫ বলে ৩০ রান করে দলকে ভালো সূচনা এনে দেন। এরপর মার্ক চ্যাপম্যানের ২৬ বলে ৪৩ রানের লড়াকু ইনিংস এবং হায়দার আলীর ১৬ বলে ৩১ রানের ক্যামিও ইসলামাবাদকে জয়ের পথে অনেকখানি এগিয়ে দেয়। শেষের দিকে ক্রিস গ্রিন মাত্র ৯ বলে ২১ রান করে ম্যাচটি জয়ের খুব কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন, ফলে শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য সমীকরণ সহজ হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাচের ১৯তম ওভারে মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে ২২ রান নিয়ে ইসলামাবাদ ম্যাচ প্রায় নিজেদের পকেটে পুরে ফেলেছিল। জয়ের জন্য শেষ ওভারে তাদের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৬ রান। কিন্তু সেই অসম্ভব সমীকরণ সম্ভব করে দেখান হুনাইন শাহ। স্নায়ুচাপের এই চূড়ান্ত মুহূর্তে তিনি মাত্র ৩ রান খরচ করেন এবং তার নিখুঁত ইয়র্কারে ইসলামাবাদের ব্যাটাররা হাত খোলার সুযোগই পাননি। শেষ পর্যন্ত ১৮৪ রানেই থেমে যায় ইসলামাবাদের ইনিংস।
হায়দরাবাদের বোলিং বিভাগে হুনাইন শাহ ৩৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে জয়ের নায়ক বনে যান। মোহাম্মদ আলী ৪৪ রান খরচ করলেও গুরুত্বপূর্ণ ২ উইকেট নেন। এছাড়া সাইম আইয়ুব বল হাতে ৪ ওভারে ৩১ রান দিয়ে ১ উইকেট শিকার করেন। এই অবিস্মরণীয় জয়ের ফলে হায়দরাবাদ কিংস মেন এখন শিরোপার লড়াইয়ে পেশোয়ার জালমির মুখোমুখি হবে, আর ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো আক্ষেপের ২ রান নিয়ে।
