শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়িত্বরত এক চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ইমার্জেন্সি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. নাসির, যিনি ৪৮তম বিসিএসের চিকিৎসক হিসেবে সংযুক্তিতে সদর হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে গভীর রাতে শরীয়তপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগীর চাপের মধ্যেই দায়িত্ব পালন করছিলেন চিকিৎসকরা।
জানা গেছে, হৃদরোগে আক্রান্ত এক রোগী দুই দিন ধরে বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তার রক্তচাপ অত্যন্ত কমে যায় এবং তিনি কার্ডিওজেনিক শকে চলে যান। পরিবারের সদস্যরা রোগীকে ঢাকায় নিতে অপারগ ছিলেন বলেও জানা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, রোগীর অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। পরে ডা. নাসির ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীকে মৃত অবস্থায় পান। এরপর ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে জড়ো হয়ে হামলা চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা জরুরি বিভাগের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ডা. নাসির একটি ওয়াশরুমে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেও তাকে টেনে বের করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলায় তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
এ ঘটনায় তিনজন আনসার সদস্যও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। গুরুতর আহত অবস্থায় ডা. নাসিরকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
ঘটনার পর চিকিৎসক মহলে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
