রোববার, ২৪ মে ২০২৬
Logo
×
১১ বছরের শিশু ধর্ষণে তোলপাড়

শিশু ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক অবশেষে গ্রেপ্তার

প্রথম সমাচার ডেস্ক ০৬ মে ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছরের এক শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের মধ্যেই অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন মামলার প্রধান অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর। বুধবার ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে র‌্যাব-১৪

মদন থানা সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৬ মে) ভোর প্রায় ৪টার দিকে র‌্যাব-১৪ এর একটি অভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গৌরীপুরে অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম।

অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক। ভুক্তভোগী ১১ বছরের শিশুটি ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল। মামলার এজাহার, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের শেষ দিকে মাদ্রাসায় ক্লাস শেষে শিশুটিকে একা পেয়ে তাকে ধর্ষণ করে শিক্ষক সাগর। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য করা হয়। দীর্ঘদিন অসুস্থতার পর পরিবারের সন্দেহ হলে চিকিৎসা পরীক্ষায় জানা যায় শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। বর্তমানে তার গর্ভে প্রায় সাত মাসের ভ্রূণ রয়েছে বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের ঝড় ওঠে এবং শিশুটির নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে নানা মহল সোচ্চার হয়। অনলাইন কমিউনিটিতেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়; অনেকেই এটিকে বিচারহীনতার সংস্কৃতির ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দেন।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুর মা মদন থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করলে অভিযুক্ত শিক্ষক পরিবারসহ পালিয়ে যায়। এমনকি আত্মগোপনে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নির্দোষ দাবি করে ভিডিও প্রচারও করেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের মুখে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু গ্রেপ্তার নয়—এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থেকে থাকলে তাদেরও শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে শিশুটির উন্নত চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আমান উল্লাহ সাগরকে আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হবে। মামলার তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশজুড়ে আলোচিত এই ঘটনায় অবশেষে প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হলেও এখন সবার চোখ বিচার প্রক্রিয়ার দিকে—১১ বছরের এক শিশুর জীবনে নেমে আসা এই নির্মম অন্ধকারের ন্যায়বিচার আদৌ কত দ্রুত নিশ্চিত হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...