শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
Logo
×

শিশু রামিসা ধ/র্ষণ ও হ/ত্যা মামলায় সোহেলের মৃত্যুদণ্ড

প্রথম সমাচার ডেস্ক ০৭ জুন ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ন

রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত দীর্ঘ সময় ধরে রায়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ, জবানবন্দি ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণে প্রতীয়মান হয়েছে। আদালতের মতে, অপরাধ সংঘটনের পর প্রধান আসামিকে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে স্বপ্না খাতুনের ভূমিকারও প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে উভয় আসামিকেই একই অপরাধে দায়ী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সকালেই দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয় এবং রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মামলার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। পরে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন। মামলাটির বিচার কার্যক্রম অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ায় এটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিচার চলাকালে পরিবার-পরিজন, প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসক, পুলিশ কর্মকর্তা ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ মোট ১৬ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে দাবি করে, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ আসামিদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রাপ্য। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রধান আসামির ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন জানান।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবী এলাকায় প্রতিবেশীর বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আট বছর বয়সী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরদিন নিহত শিশুর বাবা থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে এবং দ্রুত তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ১ জুন মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যেই বিচার শেষ করে আদালত রায় ঘোষণা করেন।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...