বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই সিদ্ধান্তকে এবার সরাসরি ‘ভয়াবহ ভুল’ (Blunder) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন টাইগার অলরাউন্ডার শাকিব আল হাসান। সম্প্রতি জনপ্রিয় ক্রীড়া মাধ্যম ইএসপিএন-ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের ক্রিকেট পরিস্থিতি, রাজনৈতিক জটিলতা এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
সাকিব আল হাসান মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতকে বিশ্বকাপ খেলতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। শাকিবের মতে, এর ফলে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ ক্রিকেটের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে দীর্ঘ সময় লাগবে। উল্লেখ্য, রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বাংলাদেশ অংশ না নেওয়ায় তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড এই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে।
দুই দেশের বর্তমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব ক্রিকেটেও পড়েছে। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং ভারত সফর বাতিলের প্রসঙ্গে শাকিব আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজটি অনুষ্ঠিত হবে। তিনি মনে করেন, ক্রিকেটের স্বার্থেই দুই বোর্ডের মধ্যে ‘বরফ গলে যাওয়া’ জরুরি।
সাক্ষাৎকারে শাকিবের পক্ষ থেকে সবচেয়ে ইতিবাচক মন্তব্য এসেছে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে। দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত তিক্ততা পাশে সরিয়ে রেখে সাকিব বিসিবির নতুন সভাপতি হিসেবে তামিমকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন:
“তামিম ক্রিকেটটা ভালো বোঝে। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য তার কাছে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে এবং সে বোর্ডকে সঠিক দিশা দেখাবে।”
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে দেশের বাইরে থাকা শাকিব নিজের মামলার বিষয়েও কথা বলেন। নতুন ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হকের সদিচ্ছাকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হলে তিনি দেশে ফিরতে আগ্রহী।
শাকিব পরিষ্কার জানিয়েছেন যে তিনি এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেননি। তার শেষ ইচ্ছা—দেশের মাটিতে তিন ফরম্যাটের একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানো। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলে নিজের ফিটনেস ধরে রাখছেন।
