মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের (জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার) চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনতা। তীব্র প্রতিরোধের মুখে বাংলাদেশে প্রবেশে ব্যর্থ হওয়া দুই পরিবারের সাত সদস্যকে অবশেষে নিজেদের হেফাজতে ফেরত নিয়েছে বিএসএফ।
গতকাল শনিবার (৬ জুন) দিবাগত গভীর রাতে দুই দফায় সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার পাশ থেকে তাঁদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
গ্রামবাসী ও বিজিবির যৌথ প্রতিরোধ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে মেহেরপুরের তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে ৩ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ১টি শিশুসহ মোট সাতজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাৎক্ষণিকভাবে জড়ো হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরাও দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএসএফের এই অনধিকার প্রবেশের চেষ্টাকে রুখে দেন।
উভয় পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে ওই সাতজন না পারছিলেন বাংলাদেশে ঢুকতে, না পারছিলেন ভারতের ভেতরে ফিরে যেতে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা সীমান্তের শূন্য রেখায় একটি পাটখেতের পাশে অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকেন।
পতাকা বৈঠক ও সমঝোতা
সীমান্তের এই উত্তেজনা ও জটিলতা নিরসনে শনিবার সন্ধ্যায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে রাতেই এর সুরাহা মিলে।
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মো. নুরুল হুদা জানান, শনিবার রাত ১২টার দিকে প্রথমে এক নারীকে নিজেদের হেফাজতে নেয় বিএসএফ। পরবর্তীতে দিবাগত রাত তিনটার পর বাকি ছয় সদস্যকেও সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
বর্তমানে তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং বিজিবির কড়া নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্র্তৃপক্ষ।
