সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
Logo
×

সুড়ঙ্গ পুনরুদ্ধার করে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি সচল করল ইরান

প্রথম সমাচার ডেস্ক ০১ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন

ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো দ্রুত পুনরুদ্ধার করে আবারও পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যাপক বিমান হামলার পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বুলডোজার, ডাম্প ট্রাক ও অন্যান্য সাধারণ নির্মাণযন্ত্র ব্যবহার করে ইরান ধ্বংসপ্রাপ্ত সুড়ঙ্গপথ ও প্রবেশমুখ পুনরায় সচল করছে। যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল প্রধানত সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ, রাস্তাঘাট ও সরবরাহ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র প্রবেশপথ ধ্বংস করে ইরানের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব নয়। কারণ এসব স্থাপনা শত শত মিটার গভীরে এবং শক্ত পাথরের স্তরের নিচে নির্মিত।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ১৮টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬৯টি সুড়ঙ্গপথের ৫০টিই ইতোমধ্যে পুনরায় চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত এবং কয়েকটি স্থানে নতুন করে রাস্তা নির্মাণের কাজও শেষ হয়েছে। জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজ–এর গবেষক স্যাম লেয়ার বলেন, সামরিকভাবে কিছু কৌশলগত সাফল্য অর্জিত হলেও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা না থাকলে তা শেষ পর্যন্ত কৌশলগত ব্যর্থতায় পরিণত হতে পারে।

অন্যদিকে পেন্টাগন–এর মুখপাত্র শন পার্নেল বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো স্থানে অভিযান পরিচালনায় সক্ষম।

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ও উৎক্ষেপণ সক্ষমতা ধ্বংসের কথা বলেছিলেন।

তবে বিভিন্ন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের ধারণা, ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে এখনও প্রায় এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র মজুত থাকতে পারে। একই সঙ্গে দেশটি ড্রোন উৎপাদন পুনরায় শুরু করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা দ্রুত পুনর্গঠন করছে।

হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি গবেষণা ও নিরাপত্তা নীতি ইনস্টিটিউট–এর গবেষক তিমুর কাদশভ বলেন, ইরান বহু বছর ধরে এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে যে ক্ষতি করা হয়েছে, সাধারণ প্রকৌশল সরঞ্জাম ব্যবহার করেই তারা তার বড় অংশ কাটিয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পুনর্গঠন কার্যক্রম মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: সিএনএন

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...