শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
Logo
×

সুন্দরবনে দস্যুদের গুলির আঘাত সয়েও ভারতের পথে কার্গো জাহাজ ‘এমভি আব্দুল হাকিম-১’

প্রথম সমাচার ডেস্ক ০৮ জুন ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ন

সুন্দরবনের ভেতরে সশস্ত্র দস্যুবাহিনীর ভয়াবহ হামলার শিকার হওয়ার পরও থেমে থাকেনি ভারতগামী বাংলাদেশি কার্গো জাহাজ ‘এমভি আব্দুল হাকিম-১’। শুল্কসংক্রান্ত কাজ শেষে খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার আংটিহারা শুল্ক স্টেশন থেকে আজ সোমবার ভোর পাঁচটার দিকে জাহাজটি পুনরায় ভারতের কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। মূলত ভারতীয় বন্দরে প্রবেশের অনুমতির (পারমিট) মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কোনো রকম বিলম্ব না করেই আতঙ্ক ও ঝুঁকি মাথায় নিয়ে আবার যাত্রা শুরু করেছেন জাহাজের কর্মীরা।

গত শনিবার দুপুরে মোংলা বন্দর থেকে খালি অবস্থায় ভারতের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল জাহাজটি। সেখান থেকে ফ্লাই অ্যাশ বা সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল নিয়ে দেশে ফেরার কথা ছিল এর। তবে ওই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটা থেকে সাড়ে সাতটার দিকে সুন্দরবনের শিংয়েনালা (স্থানীয়ভাবে ঝপঝপি নদী নামে পরিচিত) এলাকায় পৌঁছালে ১০ থেকে ১৫ জনের একদল সশস্ত্র দস্যু ট্রলারে করে এসে হঠাৎ কার্গো জাহাজটিতে চড়াও হয়। এতে জাহাজের কর্মীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

জাহাজটির ইনচার্জ মাস্টার মো. নুর নবী ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, দস্যুরা জাহাজে উঠেই প্রথমে নিচতলায় থাকা সাধারণ কর্মীদের জিম্মি করে ফেলে। এরপর তারা ওপরের মাস্টার ব্রিজে ঢোকার জন্য জোর চেষ্টা চালায়। বিপদ টের পেয়ে নুর নবী দ্রুত ব্রিজের সব গেট ও দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দস্যুরা দরজা লক্ষ্য করে ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। পুরো দরজা গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় এবং জানালার কাচ ভেঙে পড়ে। তবে ব্রিজে ঢুকতে ব্যর্থ হয়ে তারা মাস্টারের কেবিনের তালা ভেঙে ৫৯ হাজার টাকা এবং অন্য কর্মীদের কাছ থেকে ৭টি মুঠোফোন ও আরও ৬ হাজার টাকা লুটে নেয়।

মাত্র ১৪ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে এই তাণ্ডব চালিয়ে আশপাশের অন্য জাহাজগুলো এগিয়ে আসতে দেখে দস্যুরা দ্রুত সুন্দরবনের গহীনে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পর তানভীর শেখ নামের এক কর্মী চরম ভয় পেয়ে জাহাজ ছেড়ে চলে গেছেন। তবে আইনি প্রক্রিয়ার ঝামেলা ও সময়ের অপচয় এড়াতে নৌ পুলিশকে ঘটনাটি জানানো হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেননি কার্গোটির ইনচার্জ। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আগামী তিন দিনের মধ্যে তারা কলকাতা বন্দরে পৌঁছাতে পারবেন বলে আশা করছেন।

এদিকে ঘটনাটি কোস্টগার্ডকে জানাতে দেরি হওয়ায় তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়েছে। কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার মাহবুব হোসেন জানান, কোন দস্যু বাহিনী এই হামলার পেছনে জড়িত, তা শনাক্ত করতে তাদের গোয়েন্দারা কাজ শুরু করেছেন। তবে সুন্দরবনের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বারবার দস্যুতার ঘটনা ঘটতে থাকলে বাংলাদেশ-ভারত নৌ প্রটোকল রুটে নৌযান চলাচল চরম হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মোংলা শাখার বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...