বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে ইরান। দেশটির ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ প্রণালিতে নতুন একটি ‘কন্ট্রোলড মেরিটাইম জোন’ বা নিয়ন্ত্রিত সমুদ্র অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এই অঞ্চলের ভেতর দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও নৌযানকে এখন থেকে ইরানি কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে যাতায়াত করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরান এই নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের ভৌগোলিক সীমারেখাও প্রকাশ করেছে। পূর্ব দিক থেকে ইরানের কুহ-ই মুবারক এলাকা থেকে শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত–এর ফুজাইরাহ উপকূল পর্যন্ত এবং পশ্চিম প্রান্তে ইরানের কেশম দ্বীপ থেকে ওমান উপকূল ঘেঁষে ইউএই’র উম্ম আল-কুওয়াইন পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল বিস্তৃত বলে জানানো হয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, নির্ধারিত এই সীমানার ভেতর দিয়ে যেকোনো ধরনের ট্রানজিট বা নৌ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনে স্বীকৃত অবাধ নৌ চলাচলের নীতির সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত সাংঘর্ষিক হতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর বড় অংশের জ্বালানি রপ্তানি এই পথেই এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে পৌঁছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও নতুন চাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের প্রতিক্রিয়ার দিকেও নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
