শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
Logo
×
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা

হরমুজ প্রণালীতে টোলমুক্ত করিডোর চালুর উদ্যোগ ওমানের

আন্তর্জাতিক প্রথম সমাচার ২৪ জুন ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন

হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা প্রায় ১১ হাজার নৌকর্মীকে উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে জাতিসংঘ। এমন সময়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী আলোচনায় পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শন ও প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে দুই দেশের বক্তব্যে স্পষ্ট ফারাক ধরা পড়েছে।

উভয় পক্ষের আলোচকরা নির্ধারিত ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের প্রধান মার্কো রুবিওর বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরান কোনো ধরনের মাশুল আরোপ করতে পারবে না।

পাশাপাশি ওমান ঘোষণা দিয়েছে, জাতিসংঘের নৌ-সংস্থা আইএমও-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে হরমুজ প্রণালীতে একটি অস্থায়ী জাহাজ চলাচল করিডোর তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে তারা।

দেশটির মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় উল্লেখ করেছে, প্রণালীতে নির্বিঘ্ন ও মাশুলমুক্ত নৌ চলাচল নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলার যে অঙ্গীকার ওমান করেছে, এই করিডোর তারই অংশ। তবে এই পথ ব্যবহার করতে চাইলে জাহাজগুলোকে আইএমও-এর সঙ্গে সমন্বয় করে নিতে হবে।

এই সংঘাতে লেবাননের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। চলতি বছরের ২ মার্চ হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে মিসাইল ছোড়ার মধ্য দিয়ে লেবানন এই যুদ্ধে প্রবেশ করে। দলটির ভাষ্য, এর আগের দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতা আলী খামেনি প্রাণ হারানোর জবাব দিতেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছিল।

কিন্তু পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানের কাছে লেবাননের কৌশলগত মূল্য নিছক এই প্রতিক্রিয়ার চেয়ে অনেক বেশি গভীর। ইসরায়েলের ১৯৮২ সালের লেবানন আক্রমণের জবাবে এবং ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সরাসরি সহযোগিতায় গড়ে ওঠা হিজবুল্লাহ এখন লেবাননের রাজনীতি ও সামরিক বলয়ে একইসঙ্গে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে।

লেবাননের সামরিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নাইম সালেমের ভাষ্যে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তেহরানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ আদর্শিক সহযোগী হিসেবে বিবেচিত হয় এই সংগঠনটি।

ইরানের কর্মকর্তাদের ভাষ্যে, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর একের পর এক আক্রমণ অব্যাহত থাকায় তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় লেবাননে যুদ্ধ থামানোর শর্ত যুক্ত করার ব্যাপারে অনড় রয়েছে।

এর একটি বড় উদাহরণ হলো গত ৮ এপ্রিলের ঘটনা—যেদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পরও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মাত্র দশ মিনিটের মধ্যে শতাধিক বিমান হামলা চালায় লেবাননে, যাতে সাড়ে তিনশতাধিক মানুষের মৃত্যু হয় এবং নয়শতাধিক মানুষ আহত হন।

চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত লেবাননে চার হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বারো লাখের বেশি বাসিন্দা, এবং দক্ষিণ লেবাননে গত তিন দশকে যত ভূখণ্ড ইসরায়েল দখল করেছিল তার চেয়েও বেশি এলাকা তারা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এই অভিযানে। —সূত্র: আল জাজিরা

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...