মহারাজা যাদবেন্দ্র সিং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আইপিএল ২০২৬-এর ১৭তম ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদকে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে পাঞ্জাব কিংস। ২২০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাঞ্জাব কিংস ৭ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যের জন্য ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন পাঞ্জাব অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন পাঞ্জাব অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। তার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের ওপেনার অভিষেক শর্মা ও ট্র্যাভিস হেড শুরু থেকেই চড়াও হন। অভিষেক শর্মা মাত্র ২৮ বলে ৫টি চার ও ৮টি ছক্কার সাহায্যে ৭৪ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে ট্র্যাভিস হেড ২৩ বলে ৩৮ রান করে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন, যা হায়দ্রাবাদকে একটি বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেয়।
মিডল অর্ডারে অধিনায়ক ইশান কিষাণ ১৭ বলে ২৭ রান এবং হেনরিক ক্লাসেন ৩৩ বলে ৩৯ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে দলের স্কোরকে এগিয়ে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২১৯ রানের পাহাড়সম স্কোর দাঁড় করায় হায়দ্রাবাদ। পাঞ্জাব কিংসের পক্ষে বল হাতে শশাঙ্ক সিং ছিলেন সবচেয়ে সফল, তিনি ৩ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া আর্শদীপ সিং ৫০ রান খরচায় ২ উইকেট তুলে নেন।
২২০ রানের পাহাড় তাড়া করতে নেমে পাঞ্জাব কিংসের দুই ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য এবং প্রভসিমরান সিং ঝোড়ো সূচনা করেন। আর্য মাত্র ২০ বলে ৫৭ রানের একটি টর্নেডো ইনিংস খেলেন, যা পাওয়ারপ্লেতেই হায়দ্রাবাদকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। প্রভসিমরান সিংও পিছিয়ে ছিলেন না, তিনি ২৫ বলে ৫১ রানের একটি দুর্দান্ত হাফ-সেঞ্চুরি উপহার দেন। ওপেনারদের এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ফলে পাঞ্জাবের রান তাড়া করা অনেক সহজ হয়ে যায়।
মাঝপথে উইকেট হারালেও অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার শক্ত হাতে হাল ধরেন। তিনি ৩৩ বলে ৫টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে ৬৯ রানের এক অপরাজিত অনবদ্য ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পক্ষে বোলার শিবাং কুমার ৩৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করে লড়াই করার চেষ্টা করলেও অন্য বোলারদের ব্যর্থতায় তা বৃথা যায়। ১৮.৫ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়েই ২২৩ রান তুলে ফেলে পাঞ্জাব।
এই জয়ের ফলে পাঞ্জাব কিংস আইপিএল ইতিহাসে ১০ম বারের মতো ২০০-এর বেশি রান তাড়া করার রেকর্ড গড়ল। অন্যদিকে, বিশাল রান সংগ্রহ করেও বোলিংয়ের ব্যর্থতায় ম্যাচটি হাতছাড়া করতে হয় ইশান কিষাণের হায়দ্রাবাদকে। পাঞ্জাবের এই জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকায় তাদের অবস্থান আরও মজবুত হলো, আর হায়দ্রাবাদকে তাদের বোলিং বিভাগ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দিল এই ম্যাচ।
