জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় পদায়নের জন্য যে চিঠি পাঠানো হয়েছে, সেখানে তার সই থাকার কথা বলছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ওই চিঠি নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদনের পর বিষয়টি স্পষ্ট করতে বুধবার (১১ মার্চ) এক বিবৃতিতে ওই চিঠির আদ্যোপান্ত তুলে ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে জামায়াত আমিরের সম্মতি পেলে চিঠিটি প্রকাশ করতে প্রস্তুত থাকার কথা বলা রয়েছে।
এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ব্যাখ্যাও দেয় জামায়াত। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদায়নের বিষয়ে তারা চিঠি পাঠিয়েছিলেন ঠিক, কিন্তু চিঠি পাঠানোর ক্ষেত্রে তাদের আমিরের নির্দেশনা না মেনে বাড়তি কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে।
সে কারণে শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসানকে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে বলেছে, ‘২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা একটি চিঠি ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে তিনি একই চিঠি সরাসরি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও হস্তান্তর করেন।’
‘চিঠিটি বিরোধীদলীয় নেতার জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা ছিল। চিঠির বিষয়বস্তু হচ্ছে, ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে “বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা” হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা বা মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ ও সুপারিশ।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ‘বিরোধীদলীয় নেতা তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে ড. হাসানের দক্ষতা, পেশাদারত্ব ও বিচক্ষণতার প্রশংসা করেন এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে একত্রে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তাকে উল্লিখিত পদে পদায়নের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট সুপারিশ করেন। তিনি বিষয়টিকে বিশেষভাবে বিবেচনার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান। চিঠির নিচে শুধুমাত্র বিরোধীদলীয় নেতার স্বাক্ষর রয়েছে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিরোধীদলীয় নেতা লিখিতভাবে সম্মতি প্রদান করলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠিটির পূর্ণ পাঠ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ‘জামায়াতের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করা হয়। সেখানে জানানো হয় যে উক্ত চিঠির বিষয়ে আমিরে জামায়াত অবগত ছিলেন না’।
তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, ‘এ ধরনের কোনো ফোনালাপ সংঘটিত হয়নি।’
