ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও হবিগঞ্জ শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভারত সফরের সময় তার কাছে প্রায় ৪০ লাখ টাকার সমপরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি ছিল বলে এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অর্থের পরিমাণ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পর্তুগালের ভিসা আবেদন করার উদ্দেশ্যে মাহদী দিল্লি যান। ভবিষ্যৎ খরচের কথা বিবেচনায় রেখেই তিনি উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ সঙ্গে নিয়েছিলেন বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। যদিও আরেকটি সূত্র টাকার পরিমাণ নিশ্চিত করতে পারেনি।
জানা গেছে, দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় একটি বেসরকারি ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে আবেদন করতে গেলে কেউ তাকে চিনে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এরপর বিষয়টি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে এবং তার ওপর নজরদারি শুরু হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
পরে তাকে দিল্লি ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি পাহাড়গঞ্জের একটি হোটেল ত্যাগ করে বিমানবন্দরের কাছাকাছি আরেকটি হোটেলে ওঠেন। ভারতীয় একটি সূত্রের দাবি, ওই রাতেই তার ভিসা বাতিল করা হয়, যদিও তিনি আগে তা জানতেন না।
পরদিন সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে ইন্ডিগোর ঢাকা ফ্লাইট ধরতে গেলে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় তাকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রায় আধঘণ্টা বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা তাকে প্রশ্ন করেন বলে জানা গেছে। তবে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় পক্ষের অভিযোগ ছিল, মাহদী প্রকাশ্যে ভারতবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন এবং বাংলাদেশে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার দাবি করেছিলেন—যা তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বুধবার বিকেলে তিনি ঢাকায় ফেরেন। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মাহদী হাসান বলেন, তাকে ‘বৈষম্যবিরোধী নেতা’ পরিচয়ে আটক রেখে হয়রানি করা হয়েছে এবং তিনি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ছিলেন। তার কাছে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সেটিকে ‘গুজব’ বলে দাবি করেন।
এর আগে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় বসে ওসি আবুল কালামকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ওই ভিডিওতে বানিয়াচং থানা পোড়ানো ও এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে জ্বালিয়ে দেওয়ার দাবি করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সমালোচনার মুখে জানুয়ারিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে মুক্তি পান।
দিল্লি সফর ও বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি বহনের অভিযোগ—দুটি বিষয় নিয়েই এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকেও মাহদীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
