সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
Logo
×

কোস্ট গার্ডকে আধুনিকায়নে যুক্ত হচ্ছে হেলিকপ্টার, বাড়বে ১০ হাজার জনবল

প্রথম সমাচার ডেস্ক ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক ও ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে রূপ দিতে সরকারের বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, উপকূল ও সমুদ্রসীমায় দ্রুত নজরদারি, উদ্ধার অভিযান এবং জরুরি সাড়া নিশ্চিত করতে বাহিনীটির বহরে হেলিকপ্টার সার্ভিস যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বাড়াতে পর্যায়ক্রমে ১০ হাজার নতুন জনবল নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিস্তীর্ণ সমুদ্র উপকূল, নদীপথ, মৎস্যসম্পদ এবং নৌ-অর্থনীতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডকে সময়োপযোগী প্রযুক্তি ও সরঞ্জামে সমৃদ্ধ করা এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে শুধু জলপথে টহল দিয়ে সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মানবপাচার, মাদক চোরাচালান, জলদস্যুতা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধারকাজসহ নানা ক্ষেত্রে আকাশপথে দ্রুত তদারকি অপরিহার্য। সে কারণেই কোস্ট গার্ডের জন্য বিশেষায়িত হেলিকপ্টার ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাহিনীটির অভিযানিক সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।

তিনি আরও জানান, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় কোস্ট গার্ডকে কেবল উপকূল পাহারার বাহিনী হিসেবে নয়, বরং আধুনিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। নতুন জাহাজ, দ্রুতগামী বোট, যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং নজরদারি ব্যবস্থার পাশাপাশি জনবল বৃদ্ধি করা হলে বাহিনীটি দেশের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে গভীর সমুদ্র পর্যন্ত আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ২১ জেলার নিরাপত্তা, চোরাচালান দমন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা, বনাঞ্চল তদারকি, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং দুর্যোগকালীন উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বর্তমানে বাহিনীটির একাধিক জোন, ডজনখানেক স্টেশন, জাহাজ ও উচ্চগতির টহল নৌযান রয়েছে। তবে পরিবর্তিত সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটিকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

সরকারি এই ঘোষণাকে কোস্ট গার্ডের জন্য একটি বড় সক্ষমতা সম্প্রসারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে হেলিকপ্টার সংযোজন বাস্তবায়িত হলে দুর্গম চর, গভীর সাগর, ঝড়কবলিত উপকূল ও দুর্ঘটনাপ্রবণ নদীপথে দ্রুত পৌঁছানো সহজ হবে। আর বাড়তি জনবল নিয়োগের মাধ্যমে নজরদারি ও টহল কার্যক্রমও আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...