১. আক্ষেপ কমে : আক্ষেপের আগুন, না পাওয়ার হতাশা এবং বঞ্চিত হওয়ার থেকে অন্তর মুক্ত থাকে। কেননা যে ব্যক্তি তার দৃষ্টিকে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেয়, তাঁর দৃষ্টি পার্থিব চাকচিক্যের প্রেমে পড়ে যায়। ফলে তার ভেতর আফসোস আর না পাওয়ার কষ্ট লেগেই থাকে।
২. অন্তরে নুর তৈরি হয় : যারা আল্লাহর নির্দেশ মতো দৃষ্টি সংযত রাখে আল্লাহ তাদের অন্তরে নূর ও আলো সৃষ্টি করেন। একইভাবে দৃষ্টিকে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিলে অন্তর, চেহারা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অন্ধকার আচ্ছন্ন হয়। কেননা দৃষ্টি হলো অন্তরের জানালার মতো। যে তা সংরক্ষণ করে তাঁর অন্তরে পাপের ধুলো-বালি প্রবেশ করতে পারে না আর উদাসীন হলে তা পাপে আচ্ছন্ন হয়।
৩. দূরদর্শিতা বৃদ্ধি পায় : দৃষ্টি হেফাজত করলে মানুষের বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা বৃদ্ধি পায়। ফলে সে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়। আল্লামা কিরমানি (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি তার বাহ্যিক দিকগুলোকে সুন্নত দ্বারা সুসজ্জিত করে, সব সময় অন্তরে আল্লাহকে স্মরণ রাখে এবং তাঁর কথা চিন্তা করে, নিষিদ্ধ বিষয় থেকে চোখ সংরক্ষণ করে, প্রবৃত্তিকে অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে এবং হালাল খায় সে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কখনো ব্যর্থ হয় না। আল্লাহ তাঁকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাওফিক দেন।
৫. আত্মা শক্তিশালী হয় : মানুষ যখন দৃষ্টির হেফাজত করার মাধ্যমে আল্লাহর নুর ও ইলমে হাকিকত লাভ করে, তখন তাঁর রুহ বা আত্মা আল্লাহর রঙে রঙিন হয় এবং তাতে অভাবনীয় শক্তি, দৃঢ়তা ও সজীবতা তৈরি হয়। ৬. আত্মিক তৃপ্তি বাড়ে : দৃষ্টি সংযত রাখলে মানুষের অন্তরে তৃপ্তি, আনন্দ ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। কেননা চোখে দেখে কোনো কিছু উপভোগ করলে পশু প্রবৃত্তি শক্তিশালী হয় এবং আল্লাহপ্রেমের স্বাদ নষ্ট হয়। বিপরীতে দৃষ্টি সংযত করলে আল্লাহপ্রেমের তৃপ্তি ও ইবাদত স্বাদ বৃদ্ধি পায়।
৭. জাহান্নাম থেকে রক্ষা : দৃষ্টির হেফাজত একজন মানু
কে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করে। কেননা খারাপ বিষয় বা বস্তু দেখলে তার প্রতি মানুষের আকর্ষণ তৈরি হয়। তখন মানুষ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজের প্রতি ধাবিত হয়। বিপরীতে যখন কেউ তার চোখের হেফাজত করে, সে অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে নিরাপদ থাকে।
