ইসলাম নামক ইমারতের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ নামাজ। একটি ভবন কিংবা সেতু যেমন খুঁটি ছাড়া দাঁড়াতে পারে না, তেমনি নামাজ ছাড়া সঠিক মুসলমান হওয়াও সম্ভব নয়। নবীজি (সা.) বলেছেন, মুসলমান ও কাফেরের মাঝে পার্থক্য হলো নামাজ ( মুসলিম)। তবে শুধু নামাজ পড়লেই হবে না, একাগ্রতা, খুশু-খুযু ও ধীরস্থিরতার সঙ্গে পড়তে হবে। যার নামাজ যত সুন্দর তার জীবন তত সুন্দর এবং সে তত উঁচুমানের মুত্তাকি। মুমিন জীবনের সফলতা নির্ধারিত হয় তার নামাজের সৌন্দর্যের ওপর ভিত্তি করে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ সফল মুমিনদের পরিচয় দিতে গিয়ে প্রথমেই বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই সে মুমিনগণ সফলকাম, যারা তাদের নামাজে বিনয়াবনত (সুরা মুমিনুন)। অর্থাৎ যারা নামাজ আদায় করে অত্যন্ত মনোযোগ ও নিবিষ্টচিত্তে।
নামাজে সৌন্দর্যবর্ধনের মূল চাবিকাঠি ধীরস্থিরতা ও একাগ্রতা। আমাদের জীবনের সর্বত্র তাড়াহুড়োর প্রবণতা দেখা যায়। ইন্টারনেটের গতির মতো জীবনের সব পরতে দ্রুততার প্রবণতা কাজ করে। ইবাদতেও এর ব্যতিক্রম নয়। অথচ এমনটা উচিত নয়। ধীরস্থিরতা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর তাড়াহুড়ো শয়তানের পক্ষ থেকে।
যার নামাজ যত সুন্দর সে তত ভালো মুসলিমআবু হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে নামাজ আদায় করছিল। আর নবী (সা.) তখন মসজিদের এক কোণে অবস্থান করছিলেন। লোকটি এসে নবীজি (সা.)-কে সালাম করলেন। তিনি বললেন, ফিরে যাও এবং নামাজ আদায় কর। তখন সে ফিরে গিয়ে নামাজ পড়লেন। পুনরায় এসে সালাম করলেন।
তাড়াহুড়ো করে নামাজ আদায় উচিত নয়। প্রত্যেকটা রোকন যথেষ্ট সময় নিয়ে ধীরস্থিরতার সঙ্গে আদায় করতে হবে। অন্য এক হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘নিকৃষ্টতম চোর হলো সেই ব্যক্তি, যে নামাজ চুরি করে।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসুল! নামাজ কীভাবে চুরি করে? তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি নামাজের রুকু ও সেজদা পূর্ণ করে না (মুসনাদে আহমাদ)।’
সাধারণত আমরা যখন নামাজে দাঁড়াই, আমাদের শরীর নামাজে থাকলেও মনটা পড়ে থাকে দুনিয়ার নানা হিসাবনিকাশে। অথচ নামাজ হলো দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহর সঙ্গে লীন হওয়ার মুহূর্ত। রসুল (সা.)-এর নামাজ ছিল চোখের শীতলতা। নামাজে এমনভাবে দাঁড়াতে হবে যেন আমরা সরাসরি আল্লাহকে দেখছি আর আল্লাহ আমাদের দেখছেন। ইহসান তথা আল্লাহর উপস্থিতির অনুভূতি হলো নামাজের প্রাণ। সাহাবায়ে কেরাম এতটা মনোযোগের সঙ্গে নামাজে দাঁড়াতেন যে শরীরে তিরের আঘাত লেগেছে। ক্ষত হয়ে গেছে। তবু তাঁরা টের পেতেন না।
উপরিউক্ত আলোকপাতে আমরা নামাজ সুন্দর করার সুনির্দিষ্ট কিছু উপায় জেনেছি। প্রথমত নামাজের আগে ভালোমতো অজু করে নেওয়া। দ্বিতীয়ত নামাজের প্রতিটি তাসবিহ ও কেরাতের অর্থ বোঝার চেষ্টা করা। যখন বুঝতে পারব আমরা কী পড়ছি, তখন একাগ্রতা বজায় রাখা সহজ হবে। তৃতীয়ত নামাজকে জীবনের শেষ নামাজ মনে করা। রসুল (সা.) বলেছেন, তুমি যখন নামাজে দাঁড়াবে, এমনভাবে নামাজ পড়ো যেন এটিই তোমার জীবনের শেষ নামাজ। এই একটি অনুভূতি নামাজের মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে যথেষ্ট হতে পারে।
