বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
Logo
×

নম্রতা নেতৃত্বকে শক্তিশালী করে

প্রথম সমাচার ডেস্ক ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ন
নেতৃত্ব মহান আল্লাহর দান। তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, `বল, হে আল্লাহ! সার্বভেৌম শক্তির মালিক! তুমি যাকে চাও ক্ষমতা দান কর, আর যার থেকে চাও ক্ষমতা কেড়ে নাও।

যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর এবং যাকে চাও লাঞ্ছিত কর। সমস্ত কল্যাণ তোমারই হাতে। নিশ্চয়ই তুমি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ২৬)

তাই মহান আল্লাহ কাউকে নেতৃত্বের নিয়ামত দিলে, তাদের উচিত তঁার শোকর আদায় করা। তাকে ভয় করা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করা। পবিত্র কোরআনে মহান আাল্লাহ অনুসারীদের সঙ্গে বিনম্র আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

ইরশাদ হয়েছে,, `যে সকল বিশ্বাসীরা তোমার আনুগত্য করে তাদের জন্য তুমি তোমার অনুকম্পার বাহু প্রসারিত কর।’ (সুরা : শুআরা, আয়াত : ২১৫)

এই আয়াত নেতৃত্বের একটি মেৌলিক নীতি শিক্ষা দেয়, তা হলে নেতৃত্ব মানে শুধু নির্দেশ দেওয়া নয়; বরং হূদয় জয় করা। একজন নেতা যখন অনুসারীদের প্রতি দয়া, সহানুভূতি ও নম্রতা প্রদর্শন করেন, তখন তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার আনুগত্য করে। এতে নেতৃত্ব জোরপূর্বক নয়, বরং ভালোবাসা ও আস্থার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয় যা দীর্ঘস্থায়ী ও দৃঢ়।

যেসব নেতারা তাদের অনুসারীদের প্রতি সদয় হয়, মহানবী (সা.) তাদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন। আয়েশা (রা.) বলেন, আমি মহানবী (সা.)-কে আমার ঘরে বলতে শুনেছি, (তিনি বলেছিলেন) হে আল্লাহ! যে আমার উম্মতের কোনো রূপ কর্তৃত্বভার লাভ করে এবং তাদের প্রতি রূঢ় আচরণ করে তুমি তার প্রতি রূঢ় হও, আর যে আমার উম্মাতের উপর কোনো রূপ কর্তৃত্ব লাভ করে তাদের প্রতি নম্র আচরণ করে তুমি তার প্রতি নম্র ও সদয় হও।’ (মুসলিম, হাদিস : ৪৬১৬)

এই হাদিস মুমিনদের জন্য গভীর শিক্ষা রয়েছে। কঠোরতা হয়তো সাময়িকভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, কিন্তু তা মানুষের অন্তরে স্থায়ী বিদ্বেষের জন্ম দেয়। পক্ষান্তরে নম্রতা মানুষের হূদয়ে স্থান করে নেয়, যা নেতৃত্বকে ভিতর থেকে শক্তিশালী করে। একজন নম্র নেতা তার অনুসারীদের ভালোবাসা, দোয়া ও সমর্থন লাভ করেন যা বাহ্যিক ক্ষমতার চেয়ে অধিক কার্যকর।

নেতা ও অনুসারীদের মধ্যে পারস্পরিক সহানুভূতি থাকলে তাদের কাজে মহান আল্লাহর রহমত নাজিল হয়। ফলে নেতৃত্ব হয় কল্যাণময় ও স্থিতিশীল। কিন্তু যখন এই সহানুভূতি উঠে যায়, তখন কাজের মধ্যে বরকত থাকে না, বিভেদ সৃষ্টি হয়, এবং নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়ে।

নমনীয়তা কোনো দুর্বলতা নয়; বরং এটি একটি শক্তি, যা সংগঠন, পরিবার বা সমাজকে সুসংহত রাখে। কঠোরতা যেখানে ভাঙন সৃষ্টি করে, নমনীয়তা সেখানে সম্পর্ক জোড়া লাগায়। এ জন্যই মহান আল্লাহ তার নবীকে  উদ্দেশ্য করে বলেছেন, (হে নবী! এসব ঘটনার পর) আল্লাহর রহমতই ছিল, যার দরুন তাদের প্রতি তুমি কোমল আচরণ করেছ। তুমি যদি রূঢ় প্রকৃতির ও কঠোর হূদয় হতে, তবে তারা তোমার আশপাশ থেকে সরে বিক্ষপ্তি হয়ে যেত। সুতরাং তাদেরকে ক্ষমা কর, তাদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া কর এবং (গুরুত্বপূর্ণ) বিষয়ে তাদের সাথে পরামর্শ করতে থাক। অতঃপর তুমি যখন (কোনো বিষয়ে) মনস্থির করবে, তখন আল্লাহর উপর নির্ভর করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদেরকে ভালোবাসেন। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৫৯)

এই আয়াত স্পষ্টভাবে দেখায়, নমনীয়তা নেতৃত্বকে কীভাবে দৃঢ় করে। মহানবী (সা.)-এর মতো সর্বশ্রেষ্ঠ নেতার ক্ষেত্রেও আল্লাহ তাআলা কোমলতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। অর্থাত্ মানুষের অন্তর জয় না করে কোনো নেতৃত্ব টেকসই হয় না।

তাই কাউকে মহান আল্লাহ নেতৃত্বের নিয়ামত দান করলে তার উচিত এর যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং অনুসারীদের সঙ্গে সদয় আচরণ করা। অহংকার না করা। কাউকে তুচ্ছ করে কথা বলার চষ্টো না করা।

নম্রতা, সহানুভূতি ও মানবিকতার গুণে গুণান্বিত হওয়া। তাহলে ইনশাআল্লাহ সেই নেতৃত্ব কল্যাণময়, স্থিতিশীল ও সফল হবে।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...