বিশ্বকাপের আগে এশিয়ার ফুটবল নেতাদের সবচেয়ে বড় আনুষ্ঠানিক সভায় দেখা গেল না ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের। কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের কংগ্রেসে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো উপস্থিত থাকলেও ইরানের অংশগ্রহণ বা তাদের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ৪৮ দলের এই টুর্নামেন্ট শুরু হবে ১১ জুন। এর আগে কানাডায় এএফসি কংগ্রেস ও বৃহস্পতিবারের ফিফা কংগ্রেসে অংশ নেওয়ার কথা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের। তবে ইরানি কর্মকর্তারা কানাডার ভিসা পেয়েছেন কি না, বা ভিসা জটিলতার কারণেই তারা এএফসি কংগ্রেসে অনুপস্থিত ছিলেন কি না, তা পরিষ্কার নয়।
সভায় বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া এএফসির ৯ দলকে স্মারক উপহার দেওয়ার সময় জানানো হয়, ইরান তাদের উপহার পাবে “তারা পৌঁছালে”। এই ঘোষণাই ইরানি প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
গত সপ্তাহে ইরান সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, জাতীয় দল যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ম্যাচে “গর্বিত ও সফল অংশগ্রহণের” প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফিফাও ধারাবাহিকভাবে বলে আসছে, গত ডিসেম্বরে চূড়ান্ত হওয়া সূচি অনুযায়ীই ইরান বিশ্বকাপে খেলবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে সামরিক হামলার পর ইরানের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার যে প্রস্তাব উঠেছিল, সেটি বিবেচনায় নিতে রাজি হয়নি ফিফা।
এএফসি নেতাদের উদ্দেশে ইনফান্তিনো বলেন, বিশ্ব যখন নানা সংঘাত, সংকট ও বিপজ্জনক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন ফুটবলের মাধ্যমে মানুষকে একসঙ্গে আনার পথ খুঁজতে হবে। তার ভাষায়, সেতু গড়ার পাশাপাশি ফুটবল মাঠ ও প্রতিযোগিতাও সেই মিলনের জায়গা হতে পারে।
বিশ্বকাপে ইরান আছে ‘জি’ গ্রুপে। তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও মিসর। টিম মেল্লির প্রস্তুতি ক্যাম্প হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টুসনে।
ইরানের প্রথম ম্যাচ ১৫ জুন, ক্যালিফোর্নিয়ার ইংলউডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। একই ভেন্যুতে ২১ জুন বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৬ জুন সিয়াটলে ইরানের প্রতিপক্ষ মিসর।
