রোববার, ২৪ মে ২০২৬
Logo
×

বাংলাদেশের প্রথম টি২০ অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফিজের জন্মদিনের শুভেচ্ছা

জুবায়ের আহমেদ ০১ মে ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ন

 

বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রথম টি২০ অধিনায়ক, ধারাবাহিক রান করা এবং দলকে জয় এনে দেওয়ার অন্যতম কারিগড় শাহরিয়ার নাফিজের আজ ৪১তম জন্মদিন। জন্মদিনের শুভেচ্ছা রইল।

শাহরিয়ার নাফিজ ২০০৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকে নিয়মিত রান করেছেন। ২০০৫-০৬ সালে রানের বন্যা বইয়ে দিয়ে ২০০৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে দলের সহ অধিনায়ক হয়েছেন ভবিষ্যত অধিনায়কের চিন্তা থেকে। নাফিজ ২০০৬ সালে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ওয়ানডেতে এক হাজার রান করেছেন। এই বছরটায় বাংলাদেশ কেনিয়া ও জিম্বাবুয়ের সাথেই সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেললেও নাফিজের অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ক্রিকেট পেয়েছিলেন নতুন দিনের দিশা।

নাফিজ বাংলাদেশের প্রথম টি২০ ম্যাচের অধিনায়ক হয়েছিলেন। ২০০৬ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪৩ রানে জয়পায় বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে নাফিজ ১৭ বলে ২৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ২৬ বলে ৩৬ রান ও ১ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন মাশরাফি। দেশের প্রথম ম্যাচ, জয় এবং নিজে ভালো ব্যাটিং মিলিয়ে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে যান নাফিজ কিন্তু পরে আর সুযোগ হয়নি দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার।

২০০৭ সালের বিশ্বকাপে নাফিজের থেকে অনেক আশা থাকলেও চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছিলেন নাফিজ। ধারণা করা হয়, এই ব্যর্থতার কারনেই পরবর্তীতে ওয়ানডেতে অধিনায়কত্ব পাওয়ার আশা শেষ হয় এবং ক্যারিয়ারও অনেকটাই নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল। টি২০ ফরম্যাটেও আর সুযোগ মেলেনি। অধিনায়ক হয়ে যান মোহাম্মদ আশরাফুল।

নাফিজ ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সিংহভাগ রান করেছেন জিম্বাবুয়ে, কেনিয়া, বারমুডা ও আয়ারল্যান্ডের সাথে। তবে এটি এমন নয় যে, নাফিজ বড় দলের বিপক্ষে পারেন না। ক্যারিয়ারের ৪র্থ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭৫, তৎপর শ্রীলংকার সাথে ৫১, নিউজিল্যান্ডের সাথে ৭৩, অস্ট্রেলিয়ার সাথে ৬০ ও ৫৬ রানের ইনিংস আছে। তবে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের ব্যর্থতা নাফিজের ক্যারিয়ারের জন্য সবচেয়ে কঠিন সময় ছিলো। বাংলাদেশের খেলা ৯ ম্যাচের ৬টিতে খেলেও কোন ম্যাচে ২০ রান করতে পারেননি, সর্বোচ্চ ১২ ছিলো, তাও বারমুডার সাথে। অথচ বিশ্বকাপের আগে বিশ্বকাপের দেশ উইন্ডিজেই বারমুডার সাথে ১০৪ রান করেছিলেন। ক্যারিয়ারের ৪ শতকের ৩টি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, ১টি বারমুডার বিপক্ষে।

নাফিজ বড় দলের বিপক্ষেও রান করেছেন ওয়ানডেতে, তবে সেটা একেবারেই কম। হাতগুনা ৫ ফিফটির পাশাপাশি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের ২য় ম্যাচে ৪৭ রান ছিল। অবশ্য টেস্টে ক্যারিয়ারের একমাত্র শতকের দেখা পেয়েছেন ফতুল্লায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০০৫ সালে। এই ম্যাচে শেন ওয়ার্নকে রুখে দিয়ে দারুণ খেলেছিলেন। অন্তত এই শতক দেখে বুঝা যায় নাফিজ সবার বিপক্ষেই পারেন। এছাড়া পরের ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭৯, আফ্রিকার বিপক্ষে ৬৯, শ্রীলংকার বিপক্ষে ৫১ ও ৬৪ রানের পাশাপাশি পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯৭ রানের ইনিংস আছে।

নাফিজ ছোট দলগুলোর বিপক্ষে অসম্ভব রকমের ভালো খেলছিলেন দেখে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিলো একটা, এমন যে, ছোট প্রতিপক্ষ হলে সহজ হয় কিনা। নাফিজের উত্তর ছিলো, কোন প্রতিপক্ষই সহজ নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রান করা কঠিন। যারা তখন খেয়াল রাখতেন মনে থাকবে।

এই বিষয়টা নিয়ে আমি একবার মজা করে পোষ্ট দিয়েছিলাম, কোন প্রতিপক্ষই সহজ নয়, তবে জিম্বাবুয়ে-কেনিয়া হলে ভালো হয়।

এই লেখায় নাফিজের ছোট দলের বিপক্ষে ভালো খেলা নিয়ে মজা করলেও আমি জানি ও মানি তার সামর্থ্য। নাফিজের পুরো সময়টা খেয়াল রেখেছি। তৎকালীন বাংলাদেশ দলের মানের চেয়েও ভালো ব্যাটার ছিলো নাফিজ, ফলশ্রুতিতে ছোট দলগুলোর বিপক্ষে বেশি জ্বলে উঠতেন। বড়দের সাথে দলও পারতো না, সেও তেমন পারেনি কিন্তু নিজের সামর্থ্য ঠিকই প্রমান করতেন।

২০০৭ সালের বিশ্বকাপের ব্যর্থতা যে, নাফিজকে কোনঠাসা করে ফেলেছিল, তা সবাই জানবেন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো করলেও ক্যারিয়ার নিয়ে দ্বিধাদ্বন্ধে থাকার কারনেই হয়তো বাশারের নেতৃত্বে আইসিএলে পারি জমিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ফিরে ২০১১ বিশ্বকাপ খেলেছেন। ফেরা পরবর্তীতে কিছু ভালো ইনিংস আছে। ২০১৩ সালে শেষবারের মতো খেলা নাফিজ দারুণ ছন্দে ছিলেন সেই সময়ে কিন্তু শ্রীলংকা সফরের পূর্বে অনুশীলনে ব্লেড দিয়ে আঙ্গুল কেটে সিরিজ মিস করার পর কপাল পুড়েছে চিরতরে। পরবর্তীতে আর সুযোগ হয়নি।

শাহরিয়ার নাফিজ ছিলেন আমাদের কৈশোর রাঙ্গানো ব্যাটার। দারুন আনন্দ দিয়েছেন। তখনকার সময়ে জিম্বাবুয়েকে হারানোও বড় ব্যাপার ছিলো, সেই কাজটা নাফিজের কারনে সম্ভব হয়েছে। জিম্বাবুয়েকে ৫ ম্যাচ সিরিজে একাধিকবার হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। তখনকার সময়ের সমমানের দলগুলোকে টপকে বড় দল হওয়া সম্ভব হয়েছে নাফিজের ব্যাটিংয়ের কল্যাণেই। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপটা ভালো গেলে নাফিজ বিশ্ব তারকা হতে পারতেন কিন্তু আফসোস, ক্যারিয়ারটা সেখানেই শেষের শুরু লেখা হয়ে গিয়েছিল।

সব মিলিয়ে নাফিজ বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার। এক ক্যালেন্ডার ইয়ারে এক হাজার রান করা প্রথম বাংলাদেশী ব্যাটার। দেশের প্রথম টি২০ অধিনায়ক। নাফিজের মূল্যায়ণ এভাবেই করতে হবে।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...