ইতালির লেচে শহরে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুনের ঘটনা ঘটেছে। নিহতের নাম নয়ন ফকির এবং অভিযুক্ত বড় ভাই হুমায়ূন ফকির। হত্যাকাণ্ডের পর ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ দেখিয়ে খুনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত নয়ন ফকিরের বাড়ি টঙ্গীবাড়ী উপজেলা-এর সোনারং ইউনিয়নে। দুই ভাইই দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছোট ভাই নয়ন প্রায় দুই থেকে আড়াই বছর আগে ইতালিতে যান, আর বড় ভাই হুমায়ূন সেখানে কয়েক বছর ধরে অবস্থান করছিলেন।
দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও দাম্পত্য বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত বলে পরিবারের দাবি। হুমায়ূন ফকির একাধিক বিয়ে করেন এবং প্রথম স্ত্রীর ভরণপোষণ ও দেনমোহর সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে মামলা হলে পরিবারের পক্ষ থেকে তার ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়।
এই পরিস্থিতিতে হুমায়ূন তার ছোট ভাইয়ের কাছে টাকা চাইতে থাকেন। প্রথমদিকে নয়ন বড় ভাইকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সহায়তা করলেও পরে অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা না থাকায় তিনি আর টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে দুই ভাইয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে হুমায়ূন ফকির ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছোট ভাই নয়নকে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
হত্যার পর অভিযুক্ত বড় ভাই ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের কাছে নিহতের রক্তাক্ত মরদেহ দেখান এবং ঘটনার কথা স্বীকার করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই ঘটনা পরিবারের মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার পর ইতালীয় পুলিশ হুমায়ূন ফকিরকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সোনারং এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রবাসে আপন ভাইয়ের হাতে ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে।
