সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
Logo
×

পাঞ্জাবকে হারিয়ে গুজরাটের নাটকীয় জয়

প্রথম সমাচার ডেস্ক ০৪ মে ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন

আইপিএল ২০২৬-এর ৪৬তম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল গুজরাট টাইটান্স এবং টেবিল টপার পাঞ্জাব কিংস। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পাঞ্জাব কিংসকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে গুজরাট টাইটান্স। দুর্দান্ত বোলিং স্পেলে পাঞ্জাবের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দিয়ে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন টাইটান্সের অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডার


ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন গুজরাট টাইটান্সের অধিনায়ক শুভমান গিল। তার এই সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে একদমই সময় নেননি বোলাররা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই মোহাম্মদ সিরাজ জোড়া আঘাত হেনে প্রিয়াংশ আর্য (২) এবং কুপার কনলিকে (০) সাজঘরে ফেরত পাঠান। পাওয়ার-প্লের মধ্যেই কাগিসো রাবাদা তুলে নেন সেট ব্যাটার প্রভসিমরান সিংকে (১৫)। মাত্র ৪৭ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে পাঞ্জাব যখন চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে, তখন হাল ধরেন তরুণ সূর্যংশ শেজ এবং অভিজ্ঞ মার্কাস স্টয়নিস। সূর্যংশের বিধ্বংসী ২৯ বলে ৫৭ রান (৩টি চার ও ৫টি ছক্কা) এবং স্টয়নিসের সংযত ৪০ রানের ওপর ভর করে ৯ উইকেটে ১৬৩ রানের লড়াকু পুঁজি পায় পাঞ্জাব। গুজরাটের হয়ে জেসন হোল্ডার মাত্র ২৪ রান দিয়ে শিকার করেন ৪টি উইকেট

১৬৪ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি গুজরাটের। দলীয় ১৬ রানেই বিদায় নেন অধিনায়ক শুভমান গিল (৫)। তবে অন্যপ্রান্তে সাই সুদর্শন দারুণভাবে ইনিংস মেরামত করেন। তিনি ৪১ বলে ৫৭ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলেন, যা টাইটান্সকে জয়ের ভিত গড়ে দেয়। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন জস বাটলার (২৬) এবং নিশান্ত সিন্ধু (১৫)। পাঞ্জাবের বোলারদের মধ্যে অর্শদীপ সিং এবং বিজয়কুমার বৈশাক ২টি করে উইকেট নিয়ে মাঝপথে খেলা জমিয়ে তুলেছিলেন, যা ম্যাচের মোড় যেকোনো দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারতো।

শেষের দিকে ম্যাচটি বেশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। যখন দ্রুত কয়েক উইকেট পড়ে যাওয়ায় চাপ তৈরি হয়েছিল, তখন ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন ওয়াশিংটন সুন্দর। তিনি অত্যন্ত শান্ত মেজাজে ২৩ বলে অপরাজিত ৪০ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলেন। ৫টি চার এবং ১টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসটি গুজরাটকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। তাকে শেষদিকে সাহায্য করেন আরশাদ খান, যিনি ৫ বলে ৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। পাঞ্জাবের ফিল্ডারদের দারুণ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও গুজরাট ১ বল বাকি থাকতেই জয়ের প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয়।

বোলিংয়ের কথা বললে, পাঞ্জাবের হয়ে অর্শদীপ সিং ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ২ উইকেট এবং ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার বিজয়কুমার বৈশাক ৪ ওভারে ৩১ রানে ২ উইকেট নিলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। এছাড়া মার্কো জানসেন এবং মার্কাস স্টয়নিস একটি করে উইকেট পান। তবে জেসন হোল্ডারের সেই ৪ উইকেটের স্পেলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। হোল্ডারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণেই পাঞ্জাব বড় কোনো সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেনি, যা টাইটান্সের ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা কিছুটা সহজ করে দেয়।

এই জয়ের ফলে ১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল গুজরাট টাইটান্স। অন্যদিকে, হারলেও ৯ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে এখনো টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে পাঞ্জাব কিংস। তবে টানা দুই ম্যাচ হেরে পাঞ্জাবের প্লে-অফের টিকিট কিছুটা বিলম্বিত হলো। আহমেদাবাদের দর্শকদের জন্য ম্যাচটি ছিল এক টানটান উত্তেজনার পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ, যেখানে শেষ হাসি হাসল ঘরের ছেলে শুভমান গিলের টাইটান্স বাহিনী।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...