জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে আমলাদের শাসক নয়, বরং সেবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে রাষ্ট্রের আমলাতন্ত্রকে সঠিক ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আজ জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত “জেলাপ্রশাসক সম্মেলন ২০২৬”-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জেলাপ্রশাসকদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে তারা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন।
বিগত ১৬ বছরের আওয়ামী সরকারের শাসনামলে নির্বাচন ব্যবস্থা নজিরবিহীন দুর্নীতি ও ত্রুটিতে ভরপুর ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ দেশের সামগ্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে জেলাপ্রশাসকরা সুদৃঢ় ভূমিকা রাখতে পারেন।
স্পিকার আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণ অত্যন্ত গণতন্ত্রকামী এবং সাধারণ মানুষের রক্তক্ষয়ী ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ অনন্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সংসদ গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র এবং গণতান্ত্রিক বিতর্ক সংসদকে দুর্বল নয়, বরং শক্তিশালী করে।
চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেন, জেলাপ্রশাসকরা সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করেন এবং কেন্দ্রীয় নীতি বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। জেলাপ্রশাসকদের পক্ষে বক্তব্য দেন রাঙামাটির জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফী, বগুড়ার জেলাপ্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান এবং রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার এ.এন.এম. বজলুর রশীদ।
ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। অনুষ্ঠান শেষে স্পিকার বিভিন্ন জেলার জেলাপ্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের সাথে মতবিনিময় এবং ফটোসেশনে অংশ নেন।
