চার বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাঝে রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পর আলাদা সময়ে একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি প্রকৃত শান্তির সংকেত নয়, বরং দুই পক্ষের কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রথম এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপে। এরপর সোমবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ৮ ও ৯ মে তারিখে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে এবং ইউক্রেনীয় পক্ষও একই পথ অনুসরণ করবে বলে তারা আশা রাখে। ৯ মে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ধর্মনিরপেক্ষ উৎসব — দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত বিজয়ের স্মরণে পালিত বিজয় দিবস। এবার সেটির ৮১তম বার্ষিকী।
তবে রাশিয়া কেবল যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েই থামেনি। মন্ত্রণালয় সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে কিয়েভ যদি বিজয় দিবসের উদযাপন বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে, তাহলে রাশিয়ান সশস্ত্র বাহিনী কিয়েভের কেন্দ্রে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে এবং বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের কর্মীদের শহর ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে।
এই ঘোষণার জবাবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আর্মেনিয়ার ইয়েরেভানে ইউরোপিয়ান পলিটিক্যাল কমিউনিটির বৈঠক চলাকালে নিজেই একটি পাল্টা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ৫-৬ মে রাত ১২টা থেকে ইউক্রেনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং সেই সময় থেকে রাশিয়ার পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনও সাড়া দেবে। তিনি বলেন, মানব জীবন যেকোনো বার্ষিকী উদযাপনের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান এবং রুশ নেতাদের এখনই যুদ্ধ শেষ করতে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
জেলেনস্কি এই সুযোগে রাশিয়ার দুর্বলতাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এবার মস্কোর বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে কোনো সামরিক সরঞ্জাম থাকবে না, যা বহু বছরের মধ্যে প্রথম। এর কারণ হিসেবে তিনি ইউক্রেনের ড্রোনের প্রতি রাশিয়ার ভয়কে দায়ী করেন এবং এটিকে মস্কোর ক্রমবর্ধমান দুর্বলতার প্রমাণ বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলার মাঝেও মাঠে রক্তপাত থামেনি। রাশিয়া ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভের কাছে মেরেফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সাতজন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী-পুরুষ উভয়ই রয়েছেন এবং আহতদের মধ্যে দুই বছর বয়সী একটি শিশুও ছিল।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা পরস্পরের সময়সীমায় মিলছে না। জেলেনস্কি বলেছেন, এই গ্রীষ্মই নির্ধারণ করবে পুতিন যুদ্ধ বাড়াবেন নাকি কূটনীতির পথে আসবেন এবং ইউরোপকে তাকে কূটনীতির দিকে ঠেলে দিতে হবে। বিশ্বের দৃষ্টি এখন এই দুই যুদ্ধবিরতির সময়কালে — দেখার অপেক্ষা যে মাঠে আদৌ কোনো নীরবতা আসে কিনা।
খবর আল-জাজিরা
