দেশের কোথাও এখন আর লোডশেডিং নেই বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিলেও তা নিয়মিত লোডশেডিং নয়, বরং যান্ত্রিক ও কারিগরি ত্রুটিজনিত সাময়িক সমস্যা। গত এক সপ্তাহ ধরে জাতীয় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রয়েছে বলেও সরকারি তথ্য বলছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, কিছুদিন আগে যে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে লোড ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়েছিল, সেটি মূলত কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সেসব সমস্যা ইতোমধ্যে অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা গেছে এবং বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত সময়েও দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন চাহিদার সমান ছিল বলে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ যেতে দেখা যায়, তার বড় অংশই দীর্ঘ পল্লী বিদ্যুতের লাইনে ত্রুটি শনাক্ত করতে বিলম্ব হওয়ার কারণে। কোথাও লাইনে সমস্যা দেখা দিলে বিদ্যুৎ ট্রিপ করে এবং তা ঠিক করতে কিছুটা সময় লাগে। ফলে অনেকেই সেটিকে লোডশেডিং মনে করলেও বাস্তবে তা কারিগরি সমস্যাজনিত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা।
তেলের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের সংকটকে তিনি বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কারণ মনে করেন না। তার ভাষ্য, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পেছনে মূল কারণ ছিল যন্ত্রপাতির সাময়িক ত্রুটি, যা এখন সমাধানের পথে।
জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তিনি আরও বলেন, দেশে কৃত্রিমভাবে ডিজেল সংকট তৈরির কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। যারা মজুতদারি, চুরি বা জ্বালানি সরবরাহে কৃত্রিম বাধা সৃষ্টি করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তবে এর আগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ ঘাটতির অভিযোগ উঠেছিল, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার খবরও প্রকাশিত হয়। যদিও সরকার বলছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শূন্য লোডশেডিং ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।
