বহুল আলোচিত ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তাঁর স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায়ের তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে।
আগামী ১০ জুন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই রায় ঘোষণা করা হবে। বুধবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত এই দিন নির্ধারণ করেন।
ঘটনার শুরু ২০২১ সালে। ২০১১ সালে তামিমার সঙ্গে রাকিব হাসানের বিয়ে হয় এবং তাদের একটি কন্যাসন্তানও জন্ম নেয়। ওই বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় নাসির ও তামিমার বিয়ের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাকিব পুরো বিষয়টি জানতে পারেন।
তাঁর দাবি, তামিমা তাঁর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রেখেই নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী। এরপর ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাকিব আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগ আনা হয়।
তদন্তে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে নাসির, তামিমা এবং তামিমার মা সুমি আক্তারকে দোষী উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে আদালত তামিমার মাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন এবং ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।
আসামিপক্ষ শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। নাসিরের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, রাকিবের সঙ্গে তামিমার তালাক ২০১৭ সালেই কার্যকর হয়েছিল এবং নাসির তামিমাকে বিয়ে করেছেন তার চার বছর পর — তাই নাসিরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আইনগতভাবে টেকসই নয়।
অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী পাল্টা যুক্তিতে বলেন, তামিমা ২০১৮ সালে নিজের পাসপোর্টে স্বামীর নাম হিসেবে রাকিবের নামই লিখেছিলেন, যা প্রমাণ করে বিয়ে তখনো বিদ্যমান ছিল।
মামলার সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো, মোট ১০ জন সাক্ষীর মধ্যে রাকিব ও তামিমার নিজের মেয়ে তুবাও আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছে — এবং সে তার মায়ের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছে বলে জানা গেছে। ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়, এরপর আত্মপক্ষ শুনানি ও সাফাই সাক্ষ্য শেষে বুধবার চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাসির ও তামিমার পাঁচ থেকে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। দীর্ঘ পাঁচ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর আগামী ১০ জুন এই মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
