নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় চলমান বোরো মৌসুমে কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মিকাইল ইসলাম। উপজেলার যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা ভবনে ছাদ রয়েছে, সেগুলো কৃষকরা ধান শুকানোর কাজে ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিজের ফেসবুক পোস্টে ইউএনও এস. এম. মিকাইল ইসলাম বলেন, “কলমাকান্দা উপজেলার যেসকল প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ছাদ রয়েছে, পার্শ্ববর্তী কৃষক ভাই-বোনেরা চাইলে ধান শুকানোর জন্য ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ অবগত আছেন।”
কলমাকান্দা উপজেলা-র কৃষকদের কথা বিবেচনায় নিয়ে দেওয়া এ ঘোষণায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি নেমে এসেছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও খোলা জায়গার সংকটের কারণে অনেক কৃষক কাটা ধান শুকানো নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন। বিশেষ করে হাওরসংলগ্ন এলাকায় নিরাপদ ও উঁচু স্থান না থাকায় ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ছিল বেশি।
উপজেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার অব্যবহৃত ছাদ কৃষকের জন্য অস্থায়ী শস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থানে পরিণত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে একদিকে যেমন কৃষকের সময় ও খরচ কমবে, অন্যদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিতে ধান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও কমবে।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, প্রশাসনের এমন মানবিক সিদ্ধান্ত এর আগে খুব কমই দেখা গেছে। একজন কৃষক জানান, “মাঠে বা রাস্তার পাশে ধান শুকাতে গেলে বৃষ্টি এলে সব নষ্ট হয়ে যায়। স্কুলের ছাদ ব্যবহার করতে পারলে অনেক উপকার হবে।”
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে যাতে কৃষকরা নির্বিঘ্নে নির্ধারিত স্থান ব্যবহার করতে পারেন। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
কৃষিবান্ধব এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসা কুড়াচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, দুর্যোগকালে সরকারি স্থাপনা জনস্বার্থে উন্মুক্ত করার এমন দৃষ্টান্ত অন্য উপজেলাগুলোর জন্যও অনুসরণীয় হতে পারে।
