দেশের শিক্ষাব্যবস্থার গভীর সংকট তুলে ধরে নতুন করে শিক্ষা আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এই বক্তব্য দেন।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকসের কারণে আগামী দিনে দেশে প্রায় ৫৬ লাখ কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়তে পারে। এই বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার মানোন্নয়ন এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি দাবি হয়ে উঠেছে।
তিনি সতর্ক করে দেন যে শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ালেই চলবে না, শিক্ষার্থী যেন মানসম্পন্ন শিক্ষা নিয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে বের হতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখনো অনেক পিছিয়ে আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষা সংস্কারকে স্রেফ কারিগরি বা নীতিগত আলোচনায় আটকে না রেখে এটিকে একটি ব্যাপক সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত করার উপর জোর দেন তিনি। এ লক্ষ্যে নতুন সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি জোট গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান ড. দেবপ্রিয়।
বাজেট বরাদ্দের প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকার শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও বরাদ্দের পরিমাণ ও তার সঠিক ব্যবহার নিয়ে বাস্তবে গুরুতর প্রশ্ন রয়ে গেছে।
শিক্ষকদের মানোন্নয়নে বিনিয়োগ না করে কেবল অবকাঠামো নির্মাণে অর্থ ঢাললে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। এছাড়া পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলোর শিক্ষাব্যয়ের পুরো বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে শুধু উপবৃত্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না বলেও তিনি মত দেন।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের যে পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে, সেখান থেকে সামনে এগিয়ে যেতে হলে শিক্ষার মান নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।
শিক্ষা আন্দোলনকে যদি গণমানুষের আন্দোলনে রূপ দেওয়া না যায়, তাহলে যে পরিবর্তন দেশ চায় তা অর্জন করা সম্ভব হবে না।
