বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও তারকা উইকেটকিপার ব্যাটার মুশফিকের রহিমের আজ ৩৯তম জন্মদিন। জন্মদিনের শুভেচ্ছা রইল।
মুশফিক বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে সিনিয়র ক্রিকেটার। ২০০৫ সালে অভিষেক হওয়া কোন ক্রিকেটারই এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন না। ২০০৬ সালে অভিষেক হওয়া রোহিত শর্মা খেলছেন ভারতের হয়ে। বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার সবচেয়ে সিনিয়র ক্রিকেট বিশ্বে, এটি অবশ্যই মুশফিক ও দেশের জন্য সম্মানের। এছাড়াও উইকেট কিপার ব্যাটার হিসেবে খেলা ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩টি ডাবল সেঞ্চুরীর রেকর্ড মুশফিকের, যা নেই বিশ্বের আর কোন উইকেট কিপার ব্যাটারের।
২০০৫ সালে টেস্ট অভিষেক দিয়ে জাতীয় দলে আসার পর ২০০৬ সাল থেকে নিয়মিত হন দলে। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ফিফটির পর আলোচনায় আসা মুশফিক, পরবর্তীতে জাতীয় দল থেকে ফর্মের কারনে বাদ পরলেও পুনরায় ফিরে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। নিজেকে করেছেন দেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার।
মুশফিক জাতীয় দলকে ৩ ফরম্যাটেই নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৮ম অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ৭ জয় পেয়েছেন মুশফিক। শান্ত ১৬ ম্যাচেই ৬ জয় পেয়ে ১৭তম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন চলতি টেস্টে।
মুশফিক ৩৪ টেস্টে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে ৭ জয়ের বিপরীতে ১৮ পরাজয় ও ড্র করেছেন ৯ ম্যাচে। মুশফিকের নেতৃত্বেই ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশকে টেস্টে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
ওয়ানডেতে ১৩তম অধিনায়ক হিসেবে দেশকে ৩৭ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ১১ জয়ের বিপরীতে ২৪ ম্যাচে হেরেছেন। ২ ম্যাচ রেজাল্ট হয়নি।
টি-টোয়েন্টিতে ৪র্থ অধিনায়ক হিসেবে দেশকে ২৩ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ৮ জয়ের বিপরীতে ১৪ ম্যাচে হেরেছেন। রেজাল্ট হয়নি ১ ম্যাচে।
ক্রিকেটার হিসেবে মুশফিক চলতি টেস্টের আগ পর্যন্ত ১০০ টেস্ট খেলে ২৮ ফিফটি ও ১৩ সেঞ্চুরীতে ৬৫১০ রান করেছেন। ডাবল সেঞ্চুরী করেছেন ৩ বার। পাকিস্তানের বিপক্ষে চলতি টেস্টে করেছেন ২৯তম ফিফটি। ১ম ইনিংসে ৭১ রান করে আউট হয়েছেন মুশফিক। ষ্ট্যাম্পিং ও ক্যাচ মিলিয়ে ১২৮ ডিসমিসাল।
২৭৪ ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ৯ সেঞ্চুরী ও ৪৯ ফিফটিতে ৭৭৯৫ রান করেছেন। ষ্ট্যাম্পিং ও ক্যাচ মিলিয়ে ২৯৯ ডিসমিসাল।
সামর্থ্য থাকার পরও টেস্ট ও ওয়ানডের তুলনায় টি২০ ফরম্যাটে বিবর্ণই ছিলেন মুশফিক। ১০২ ম্যাচ খেলে ৬ ফিফটিতে ১৫০০ রান করেছেন। ষ্ট্যাম্পিং ও ক্যাচ মিলিয়ে ৭২ ডিসমিসাল। এই ফরম্যাটটায় আরো ভালো খেলার সামর্থ্য ছিলো মুশফিকের কিন্তু তেমন সফল হতে পারেননি, ফলে সবার আগে টি২০ ফরম্যাটটাকেই বিদায় জানাতে হয়েছে।
তিন ফরম্যাট মিলিয়ে মুশফিক বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ৩ ক্রিকেটারের একজন নিঃসন্দেহে। টেস্ট বিবেচনায় সাকিবের সাথে সেরা হিসেবেই বিবেচিত হবেন এবং ব্যাটিং বিবেচনায় মুশফিকই দেশের সেরা টেস্ট ব্যাটার।
অধিনায়ক হিসেবে সাফল্যের হার কম হলেও বাংলাদেশের অধিনায়কদের মধ্যে সফল কয়েকজন অধিনায়কের মধ্যে মুশফিকও অন্যতম। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মতো দলকে টেস্ট হারানোর কৃতিত্বে মুশফিক অধিনায়ক হিসেবে আলাদা করে রাখবে।
