আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আইপিএল ২০২৬-এর ৫৬তম ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদকে ৮২ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে গুজরাট টাইটান্স। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে গুজরাট নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৬৮ রান সংগ্রহ করে। জবাবে গুজরাটের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে মাত্র ৮৬ রানেই গুটিয়ে যায় সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। বল হাতে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেওয়ায় ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন গুজরাট টাইটান্সের গতি তারকা কাগিসো রাবাদা।
ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন। গুজরাটের শুরুটা খুব একটা ভালো ছিল না, দলীয় ১৫ রানেই অধিনায়ক শুভমান গিল (৫) এবং ২৬ রানে জস বাটলার (৭) বিদায় নেন। তবে ওপেনার সাই সুদর্শন এবং ওয়াশিংটন সুন্দরের দায়িত্বশীল ব্যাটিং গুজরাটকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। সুদর্শন ৪৪ বলে ৬১ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৫টি চার ও ২টি ছক্কার মার। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ওয়াশিংটন সুন্দর মাত্র ৩৩ বলে ৫০ রান পূর্ণ করেন। সানরাইজার্সের পক্ষে প্রফুল্ল হিঙ্গে ও সাকিব হোসেন ২টি করে উইকেট শিকার করেন।
১৬৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। মোহাম্মদ সিরাজের প্রথম ওভারেই কোনো রান না করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ট্রাভিস হেড। এরপর কাগিসো রাবাদার বোলিং ঝড়ে একে একে বিদায় নেন অভিষেক শর্মা (৬), ইশান কিষাণ (১১) ও রবীচন্দ্রন স্মরন (৯)। পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার আগেই সানরাইজার্স তাদের টপ অর্ডারের ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। কোনো ব্যাটারই উইকেটে থিতু হতে না পারায় সানরাইজার্সের ইনিংস তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।
মাঝপথে বোলিং আক্রমণে এসে গুজরাটের জেসন হোল্ডার সানরাইজার্সের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। তিনি মাত্র ২০ রান খরচ করে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। সানরাইজার্সের পক্ষে অধিনায়ক প্যাট কামিন্স সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন এবং সালিল আরোরা করেন ১৬ রান। গুজরাটের হয়ে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ২টি এবং মোহাম্মদ সিরাজ ও রশিদ খান ১টি করে উইকেট ভাগ করে নেন। শেষ পর্যন্ত ১৪.৫ ওভারে মাত্র ৮৬ রানে অল-আউট হয়ে সানরাইজার্স তাদের ইতিহাসের অন্যতম সর্বনিম্ন স্কোর গড়ে।
এই বিশাল জয়ের ফলে গুজরাট টাইটান্স টানা পাঁচটি ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল। অন্যদিকে, এই পরাজয় সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের প্লে-অফের লড়াইকে কিছুটা কঠিন করে তুলল। আহমেদাবাদের মন্থর পিচে গুজরাটের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং সুদর্শন-সুন্দরের হাফ-সেঞ্চুরিই মূলত ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়। সামগ্রিকভাবে, ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগেই সানরাইজার্সকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে এই জয় তুলে নেয় টাইটান্স।
