রোববার, ২৪ মে ২০২৬
Logo
×

সমরাস্ত্র ক্রয়ে যৌথ তহবিল গঠন করল আমিরাত-ইসরাইল

প্রথম সমাচার ডেস্ক ১৯ মে ২০২৬, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন

চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইসরাইল। দুই দেশ যৌথভাবে একটি বিশেষ প্রতিরক্ষা তহবিল গঠন করেছে, যার মাধ্যমে আধুনিক সমরাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ক্রয়ে বিনিয়োগ করা হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই–এর প্রতিবেদনে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, নতুন এই প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের আওতায় ইউএই ও ইসরাইল যৌথভাবে অস্ত্র ক্রয় করবে। পাশাপাশি ইসরাইলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নেও বড় অঙ্কের অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন-ইসরাইল ও ইরান সংঘাত চলাকালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আমিরাত সফরের সময় চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়। যদিও সফর নিয়ে ইসরাইল আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিলেও আবুধাবি সে সময় প্রকাশ্যে বিষয়টি অস্বীকার করেছিল।

ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইউএই ও ইসরাইলি দূতাবাস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশ মূলত ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি যৌথভাবে উন্নয়ন এবং ক্রয়ের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

চুক্তি সম্পর্কে অবগত সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এই তহবিলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং এর কার্যক্রম শুধু বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তেল আবিবভিত্তিক থিংক ট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ–এর জ্যেষ্ঠ গবেষক ইয়োয়েল গুজানস্কি বলেন, ইউএই ও ইসরাইলের সম্পর্ক এখন ইতিহাসের অন্যতম ঘনিষ্ঠ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তার ভাষায়, কোনো আরব দেশের সঙ্গে ইসরাইলের এত গভীর সামরিক সহযোগিতা আগে দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, “ইসরাইলের কাছে উন্নত প্রযুক্তি আছে, কিন্তু সম্পদের ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে ইউএই-এর কাছে অর্থ আছে, তবে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তুলনামূলক কম। ফলে যৌথ তহবিল গঠন দুই দেশের জন্যই যৌক্তিক পদক্ষেপ।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউএই-এর প্রতিরক্ষা বাজেট ২০২৬ সালে প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা দেশটির মোট জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ। আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স খালেদ বিন মোহাম্মদ আল-নাহিয়ান ইতোমধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি–এর অধ্যাপক বার্নার্ড হাইকেল বলেন, ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সহায়তার ওপর নির্ভরশীল থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন কমছে। তাই তেল আবিব এখন বিকল্প অর্থায়নের উৎস খুঁজছে।

তিনি বলেন, “ইউএই-এর কাছে বিপুল অর্থ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরাইল কেন আমিরাতের দিকে ঝুঁকবে না?”

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনায় ইউএই-এর অবস্থান সৌদি আরব ও কাতারের চেয়ে ভিন্ন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরব যেখানে পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিসরের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, সেখানে ইউএই ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর করছে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক ফিরাস মাকসাদ বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক যত বৈরী হবে, ইউএই তত বেশি ইসরাইলের কাছাকাছি যাবে। তার মতে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করছে আবুধাবি।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...